ব্রাজিলে গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে নিরাপত্তার শঙ্কাকে কারণ দেখিয়ে কনস্যুলেট সেবা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জেরে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়াও।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন দূতাবাস জানায়, তারা শুক্রবার থেকে কনস্যুলেট সেবা স্থগিত করবে। একই সাথে আমেরিকান নাগরিকদের দূতাবাস, কনস্যুলেট বা অন্য কোনো কূটনৈতিক সুবিধাকেন্দ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে নিরাপত্তার আশঙ্কার কথা বলা হলেও হুমকির প্রকৃতি বা নির্বাচনের সাথে এর কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
রয়টার্সের বরাতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা উদ্বেগ নিরসনে ব্রাজিলীয় সমকক্ষদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তবে দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো স্থানীয় হুমকি ও ঘটনা নিয়ে নিয়মিত সতর্কবার্তা জারি করে থাকে।
মার্কিন এই সতর্কতার প্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত সোফি ডেভিস সামাজিক মাধ্যমে জানান, অস্ট্রেলীয় দূতাবাসও শুক্রবার বন্ধ থাকবে এবং তিনি অস্ট্রেলীয়দের মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।
এদিকে ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে তারা সাও পাওলো এবং রাজধানী ব্রাজিলিয়া সংলগ্ন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টে প্রতিরোধমূলক তল্লাশি ও জব্দের পরোয়ানা বাস্তবায়ন করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে সহযোগিতার ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হলেও প্রাথমিকভাবে রিপোর্টেড হুমকির সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি এবং অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত কোনো সন্দেহভাজনকেও শনাক্ত করা যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দের পর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী রবিবার ব্রাজিলের এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা পুনর্নির্বাচিত হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর ছেলে সিনেটর ফাভিও বলসোনারো। উল্লেখ্য, অভ্যুত্থানচেষ্টার দায়ে বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন জেইর বলসোনারো। রবিবার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট নিশ্চিত করতে না পারলে আগামী ২৫ অক্টোবর রানঅফ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


