...|...|...

বিশ্ব

‘তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানো’ ট্রাম্পের নীতি খারিজ করল আদালত

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:২৮
Shares
‘তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানো’ ট্রাম্পের নীতি খারিজ করল আদালত

ছবি: সংগৃহীত

পরিচিত নয় এমন কোনো রাষ্ট্রে বিতাড়িত করার আগে অভিবাসীদের নিজেদের নিরাপত্তার শঙ্কা তুলে ধরার সুযোগ দিতে হবে—এমন রায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। এর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর নীতিটি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বোস্টনের ১ম ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারপতির একটি প্যানেল মূলত গত ফেব্রুয়ারির একটি রায় বহাল রাখে, যেখানে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের তথাকথিত তৃতীয় দেশ অপসারণ নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছিল। যেসব অভিবাসীদের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই এমন দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার আগে তাদের ঠিক কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া দেওয়া উচিত, তা নির্ধারণের একটি ক্লাস-অ্যাকশন মামলার জেরে এই রায়ের সূত্রপাত হয়েছে।

আল জাজিরার তথ্যমতে, প্যানেলের পক্ষে রায় লিখে ইউএস সার্কিট জজ সেথ আফ্রেম বলেন, অভিবাসীদের দেশত্যাগের আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করার একটি ‘অর্থপূর্ণ’ সুযোগ দিতে হবে। এর মাধ্যমে আইনের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সংকীর্ণ ব্যাখ্যাকে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কর্মকর্তাদের প্রথমে অভিবাসীদের এমন কোনো দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে কি না যাদের সাথে তাদের নিজস্ব সম্পর্ক রয়েছে—এই প্রক্রিয়াজাতকরণ সংক্রান্ত রায়ের কিছু অংশ আদালত বাতিল করেছে।

ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন লিগ্যাটিশন অ্যালায়েন্সের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী ট্রিনা রিয়েলমুটো বলেছেন, এই সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেছে যে, আইনি প্রক্রিয়া এবং নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কর্তৃক প্রণীত সুরক্ষাগুলোকে এমন কোনো দেশে কাউকে বিমানে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে পাশ কাটানো যায় না, যা তাদের অপসারণ কার্যক্রমের অংশ ছিল না।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

‘থার্ড কান্ট্রি ডিপোর্টেশন ওয়াচ’—যা অধিকার গোষ্ঠী রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট পরিচালিত একটি ট্র্যাকার—এর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু চুক্তি করেছে যার ফলে অন্তত ২৯টি তৃতীয় দেশে (যার মধ্যে প্রায়শই মেক্সিকো অন্তর্ভুক্ত) ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে গৃহীত এই নীতিটিতে সামান্য নোটিশ দিয়েই অভিবাসীদের অপসারণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যদি কর্মকর্তাদের কাছে নিপীড়নবিরোধী কূটনৈতিক আশ্বাস থাকে। এই বিতর্কিত কর্মসূচিটি ইতোপূর্বে দুই দফায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে কিউবা, মিয়ানমার এবং ভিয়েতনামের নাগরিকসহ আটজন পুরুষকে দক্ষিণ সুদানে ডিপোর্ট করার পথ সুগম করেছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। অথচ দক্ষিণ সুদান এমন একটি দেশ যেখানে অপরাধ, অপহরণ এবং সশস্ত্র সংঘাতের কারণে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে থাকে। সেসময় ডিএইচএস এই অপসারণকে ‘একটি জয়’ বলে অভিহিত করলেও অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলেছিল যে এটি মৌলিক সুরক্ষাগুলোকে অবজ্ঞা করেছে।