ইসরায়েলের আগামী ২৭ অক্টোবরের ক্নেসেট (সংসদ) নির্বাচনে আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ দুটি দলকে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) লিকুদ পার্টি জানিয়েছে যে তারা ‘জয়েন্ট লিস্ট’ এবং ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ বা ‘রাম’—এই দুটি দলকে নিষিদ্ধ করার আবেদন জানাতে পরিকল্পনা করেছে। দল দুটির বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদে’ সমর্থনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে লিকুদ। তাদের দাবি, এই দলগুলো ইসরায়েলি সেনাদের অবমূল্যায়ন করে এবং হামাস ও হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে তাদের এই অভিযোগের সমর্থনে বিবৃতিতে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে লিকুদ পার্টি সাবেক সেনা প্রধান গাডি আইজেনকোটের দল ‘ইয়াশার’—যা বর্তমানে নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে—তার বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করে তুলেছে। লিকুদ এই দুই আরব দলকে আইজেনকোটের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে চিত্রিত করেছে এবং দাবি করেছে যে, সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোটকে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার গোলান ও আভিগডোর লিবারম্যানের পাশাপাশি এই আরব দলগুলোর ওপরও নির্ভর করতে হবে।
উল্লেখ্য, ‘জয়েন্ট লিস্ট’ হলো ইসরায়েলের বিভিন্ন আরব রাজনৈতিক দলগুলোর একটি জোট, অন্যদিকে মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বে ‘রাম’ দলটি এই জোট থেকে বেরিয়ে এসে আলাদাভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। ২০২১ সালে রাম প্রথম কোনো আরব দল হিসেবে ইসরায়েলের শাসক জোটে যোগদানের ইতিহাস গড়েছিল।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে পেছনে ফেলে আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি এগিয়ে রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর জোট বা বিরোধীপক্ষ—কারো পক্ষেই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করার মতো পরিষ্কার পথ তৈরি হয়নি। এর ফলে নির্বাচন-পরবর্তী কোয়ালিশন গঠনে আরব দলগুলো অত্যন্ত নির্ণায়ক বা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


