...|...|...

বিশ্ব

আইজেনকটের হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব, ক্ষমতা ধরে রাখতে আদালতে নেতানিয়াহু

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:১২
Shares
আইজেনকটের হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব, ক্ষমতা ধরে রাখতে আদালতে নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সাবেক এই সেনাপ্রধানকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করতে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ। এতে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ও বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এরপর প্রেসিডেন্ট হারজগ পার্লামেন্টের বিভিন্ন দলের সাথে আলোচনা করেন। এতে ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেন। বিপরীতে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানান ৪৬ জন। বাকি সাতজন কাউকেই সমর্থন দেননি।

এই পরিস্থিতিতে রবিবার (৮ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় জেরুজালেমে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আইজেনকটের হাতে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। জোট গঠনের জন্য তিনি প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এই সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে।

তবে সরকার গঠনের এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ।

দলটির অভিযোগ, নির্বাচনের দিন আরব রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীরা ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্মার্টফোন অ্যাপ ব্যবহার করেছেন। অথচ নির্বাচনের আগেই এ ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিলেন ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত।

লিকুদের আইনজীবী ইলান বোমবাখ জানিয়েছেন, নির্বাচনের দিন তাদের দলের ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষকেরা এ ধরনের অনিয়মের প্রায় ৭০০টি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তার দাবি, প্রতিটি ঘটনায় শত শত কিংবা হাজারো ভোট প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচনের পুরো ফলাফল, নাকি নির্দিষ্ট কিছু অংশ চ্যালেঞ্জ করা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। জেরুজালেমের জেলা আদালতে আপিল করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। তবে ১৭ নভেম্বরের আগে আপিল দায়েরের সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন লিকুদের আইনজীবী। ওই দিনই নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জের আইনি সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা।

এদিকে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিভিলিয়ান ইলেকশন গার্ড জানিয়েছে, ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে অ্যাপের সম্ভাব্য বেআইনি ব্যবহারের ৩৭৪টি ঘটনা তারা শনাক্ত করেছে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার সর্বোচ্চ ৩২ শতাংশের সাথে লিকুদের কর্মী ও ভোটকেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজমের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ, শাস দলের ক্ষেত্রে ৬ শতাংশ, আরব দল রামের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ এবং জয়েন্ট লিস্টের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে।

তবে নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার মতো অনিয়মের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। গত বুধবার কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল অনুমোদন করে।

নির্বাচনে ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি। আরব রাজনৈতিক দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন।

আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে আইজেনকট সরকার গঠনের সুযোগ পেলেও এ নিয়ে তার সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ফলে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সুপারিশ পাওয়ার পরও কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর দল নির্বাচনের ফল আদালতে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নেওয়ায় ইসরায়েলের রাজনৈতিক সংকট আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এখন আইজেনকট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠন করতে পারেন কি না এবং নির্বাচনের ফল নিয়ে লিকুদের পরিকল্পিত আইনি পদক্ষেপ কী পর্যায়ে পৌঁছায়, সেদিকেই নজর থাকবে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনের।