...|...|...

বিশ্ব

ইসরায়েলের সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকোট

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:৪০ | আপডেট: ৮ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৫
Shares
ইসরায়েলের সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকোট

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন বিরোধী রাজনীতিক ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ তাকে এ দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। আগামী ২৮ দিনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হবে তাকে। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এ সংক্রান্ত ম্যান্ডেট তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানান, সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে আইজেনকোটের প্রতি আইনপ্রণেতাদের সমর্থন বেশি ছিল। তার পক্ষে সমর্থন জানান ৬৭ জন আইনপ্রণেতা। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান ৪৬ জন।

ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য কমপক্ষে ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। নির্বাচনে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। ফলে দুই পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এ নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে।

তবে আইজেনকোট আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সাথে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে তাকে অতি-গোঁড়া অর্থোডক্স ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাস পার্টির সমর্থন পেতে হবে। এ দুটি দলের সমর্থন পেলে তার পক্ষে নেসেটে ৬১টি আসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া ৬১ আসনের সরাসরি সমর্থন ছাড়াও পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জয়ী হয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সুযোগ রয়েছে তার।

পশ্চিম তীর থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক নূর ওদেহ বলেন, আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সমর্থন পাওয়ায় প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তটি প্রত্যাশিত ছিল। তবে এখন আইজেনকোটের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি সরকার গঠন করা, যা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবে এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি বিরোধী জোটের চাপ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে পারবে।

আইজেনকোট ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম আট মাস নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টের জ্যেষ্ঠ নেতা আহমেদ তিবি প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অভিন্ন অবস্থান রয়েছে। তিনি মনে করেন, আরব দলগুলোর বাইরের সমর্থন নিয়ে আইজেনকোট সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনে বিরোধী জোট সরকার গঠন করলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

নেতানিয়াহুর এ বক্তব্যের জবাবে আহমেদ তিবি তাকে ইসরায়েল ও অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেন। একই সাথে পশ্চিম তীর ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি উগ্রপন্থিদের সহিংসতায় নেতানিয়াহুর সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আইজেনকোট নির্দিষ্টভাবে আরব দলগুলোর সাথে সরকার গঠনে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রশ্নে উভয় পক্ষের স্বার্থের মিল রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইজেনকোট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় মনোনীত ব্যক্তিও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তৃতীয় কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করতে পারবেন। তিনিও ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু।