মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক চলতি বছরের শেষে ইসরায়েলের জন্য সামরিক সহায়তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেল আবিব। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় দাবি করেছে, ট্রাম্পের এই সহায়তা বাতিলের সিদ্ধান্ত মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক ও অংশীদারত্ব কতখানি শক্তিশালী ও পরিপক্ব, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল অতীতে আমেরিকার কাছ থেকে প্রাপ্ত সামরিক সহায়তা নিজেকে রক্ষা করতে এবং একই সাথে আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বকে হুমকি দেওয়া শত্রুদের মোকাবিলা করতে সমানভাবে ব্যবহার করেছে।
বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তার বিষয়টি বরাবরই দেশটির কংগ্রেসে উভয় দলের (ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান) সর্বসম্মত চুক্তি হয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যৌথ পদক্ষেপে সামরিক সহায়তা থেকে সরে এসে এটিকে পারস্পরিক অংশীদারত্বে রূপান্তর করার এই সিদ্ধান্ত আমাদের সম্পর্কের শক্তি, পরিপক্বতা এবং সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে থাকার সক্ষমতাকেই প্রমাণ করে।
যদিও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই তহবিল কাটার বিষয়টিকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে দুই দেশের পারস্পরিক ‘অংশীদারত্ব’ হিসেবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন, তবে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ গত বৃহস্পতিবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্প যখন এই ঘোষণা দেন, তখন এটিকে বজ্রপতনের মতো অপ্রত্যাশিত বা হুট করে আসা এক ধাক্কা বলে মন্তব্য করেছিলেন হারজগ।
এদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান বলেন, গত কয়েক দশক ধরে আমেরিকান জনগণ ও মার্কিন প্রশাসন—উভয় দলই (ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান) এটা উপলব্ধি করে আসছে যে, ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা প্রকারান্তরে পশ্চিমের জন্য হুমকিস্বরূপ শত্রুদের মোকাবিলা করতেই ইসরায়েলকে সাহায্য করে আসছে।
স্পিলম্যান আরও বলেন, এই সহায়তা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে সামরিক অনুদান বা সহায়তা থেকে বেরিয়ে এসে এটিকে পারস্পরিক অংশীদারত্ব এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগে রূপান্তর করার সঠিক ও সুদূরপ্রসারী প্রক্রিয়ার ওপর কাজ করে যাচ্ছেন।


