...|...|...

বিশ্ব

আরব দলগুলোর সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আইজেনকট

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১৭
Shares
আরব দলগুলোর সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আইজেনকট

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। প্রধানমন্ত্রী পদে বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকটকে সমর্থন জানিয়েছে রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট। এতে পার্লামেন্ট নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন সাবেক এই সেনাপ্রধান। তবে আরব দলগুলোর সাথে জোট গঠনে কয়েকটি ইহুদি দলের আপত্তি থাকায় তার ক্ষমতায় যাওয়ার পথ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সাথে বৈঠকে আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানান আরব দলগুলোর প্রতিনিধিরা। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট জানান, ১২০ আসনের নেসেটের ৬৭ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন রয়েছে ৪৬ জনের।

তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেলেই সরকার গঠন নিশ্চিত হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন হারজগ। আগামী রবিবার (৮ নভেম্বর) সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা ঘোষণা করতে পারেন তিনি।

এদিকে আইজেনকটের দল ইয়াশার দ্রুত তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দলটির দাবি, ২০১৫ সালের পর ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী পদের কোনো প্রার্থী এত বেশি আইনপ্রণেতার সমর্থন পাননি।

আরব দলগুলোর সমর্থনেও জোট গঠনে জটিলতা

নেতানিয়াহুবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত। চারটি ইহুদি নেতৃত্বাধীন দলের মোট আসন ৪৮টি। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল ও জোটের আসন ১৯টি। এই দুই পক্ষই আইজেনকটকে সমর্থন জানালেও ইহুদি নেতৃত্বাধীন তিনটি দল এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোকে সাথে নিয়ে সরকার গঠনে রাজি হয়নি। আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়া আরব দলগুলোর একটি রাআম। দলটির নেতা মনসুর আব্বাস প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকে জানান, তিনি আইজেনকটের নেতৃত্বে একটি ভালো সরকার দেখতে চান।

এ সময় ২০২১ সালে ইয়ার লাপিদ ও নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের প্রসঙ্গ টানেন আব্বাস। তার মতে, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের বিবেচনায় সেই সরকারের সবচেয়ে খারাপ সময়ও বর্তমান কট্টর ডানপন্থি সরকারের তুলনায় অনেক ভালো ছিল।

তবে সম্ভাব্য জোটে রাআমের অংশগ্রহণ নিয়ে একটি বড় বাধা রয়েছে। আইজেনকটের সরকারে যোগ দিতে হলে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত রয়েছে। প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকে আব্বাস সরাসরি হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেননি। তবে সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি হামাসকে নিরস্ত্র করে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আব্বাস আরও বলেন, ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে তার দল কোনো সরকারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। রাআম সরকারে থাকলে নাগরিকদের সুরক্ষায় মন্ত্রিসভা বা সরকারের কার্যক্রম ব্যাহত হবে—এমন ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

সরকারের বাইরে থেকেও সমর্থন দিতে প্রস্তুত জয়েন্ট লিস্ট

অন্যদিকে আরব রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন জানিয়েছেন, ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা দীর্ঘদিন ধরে বর্ণবাদ, বৈষম্য, অপরাধ এবং রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত হওয়ার শিকার। এ কারণেই তাঁরা রাজনৈতিক পরিবর্তন চান।

আইজেনকটের সাথে বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জয়েন্ট লিস্ট।

জোটটির আইনপ্রণেতা আহমেদ তিবি জানিয়েছেন, তারা সরাসরি সরকারে অংশ না নিয়েও বাইরে থেকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দিতে পারেন। তবে মাত্র এক বা দুই মাস সরকার টিকিয়ে রেখে পরে পতনের মুখে ঠেলে দেওয়ার মতো কোনো উদ্যোগে অংশ নিতে চান না তারা।

তিবি বলেন, নতুন নেসেটে জয়েন্ট লিস্টের ১১টি আসন থাকবে। ফলে তাদের সমর্থন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কিংবা সংসদীয় উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি।

নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিল না পুরোনো মিত্র ইউটিজে

এদিকে সরকার গঠনের লড়াইয়ে নতুন চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেলেও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়নের সুপারিশ করেনি।

অতি-গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী দলটি এবারের নির্বাচনে সাতটি আসন পেয়েছে। প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনায় দলটির নিরপেক্ষ অবস্থান নেতানিয়াহুর জন্য নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।

অন্যদিকে আরব দলগুলোর সমর্থনে আইজেনকটের অবস্থান শক্তিশালী হলেও সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের মতবিরোধ কাটিয়ে স্থিতিশীল সরকার গঠন করাই এখন তার বড় চ্যালেঞ্জ।

আগামী ১০ নভেম্বর নবনির্বাচিত নেসেটের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এরপর নতুন স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এরই মধ্যে নেতানিয়াহুর সাথে ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে আইজেনকটের দল ইয়াশার। দলটির নেতারা মনে করেন, ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন নতুন নেতৃত্ব ও একটি স্থিতিশীল সরকার।

সব মিলিয়ে আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও আইজেনকটের সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা জোটের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটানো। অন্যদিকে পুরোনো মিত্রের সমর্থন না পাওয়ায় নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরার সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।