হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের পবিত্রতা রক্ষা এবং গত ৫৪ বছরের দানকৃত টাকার স্বচ্ছ হিসাব জাতির সামনে উন্মুক্ত করার দাবিতে মাজারের সামনে আজ মানববন্ধনে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
তারা বলছেন, এটি কোনো অনুরোধ নয়, জনগণের দাবি। ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম—হিসাব দিন, অন্যথায় মাঠ গরম হবে।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, মাজার সিলেটের মানুষের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে মাজারে জমা হওয়া কোটি কোটি টাকার আয়-ব্যয় নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।
সম্প্রতি দানবাক্স ও ডেগের টাকা প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, তারা অতীতের ৫৪ বছরের পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের অভিযোগে বলা হয়, স্বচ্ছতা মাজারের সব আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। পবিত্রতা রক্ষা, মাজারের নামে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। দানের টাকা কোথায়, কীভাবে ব্যয় হচ্ছে তার বার্ষিক প্রতিবেদন দিতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত হিসাব দাবি করেছেন। অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলন, মানববন্ধন ও "মাঠ গরম" করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুন ও ১১ জুলাই মাজারের দানবাক্স প্রকাশ্যে গণনা করে যথাক্রমে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা ও ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। সেই গণনার সময় চিরকুটে অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া যায়, যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
১৩০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার শুধু সিলেট নয়, সারা দেশের মানুষের শ্রদ্ধার স্থান। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে মানত ও দান করেন। তাই দানের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের।


