...|...|...

সারাদেশ

রংপুরে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের ৪ জনের লাশ উদ্ধার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, রাত ২:৪৩ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২৮
Shares
রংপুরে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের ৪ জনের লাশ উদ্ধার

রংপুর মহানগরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি তিনতলা ভবন থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে ওই বাড়ির তালা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১৪) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাছুয়াপাড়া মন্দিরের পাশে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি। কয়েকদিন ধরে বাড়ির প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে শনিবার রাতে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় বাড়ির ভেতরে চারজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পুলিশ জানায়, গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ ছাদের সিঁড়ির কাছে পাওয়া যায়। ছেলের মরদেহ বিছানার নিচে এবং গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ ছাদের এক প্রান্তে পাওয়া গেছে। বাড়ির ভেতরে মরদেহগুলো কয়েক দিন পড়ে থাকায় পচন ধরে যায় এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

কোতোয়ালি থানার ওসি এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দু-তিন দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা রংপুর সিআইডির ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে হচ্ছে। বাড়ির টাকা-পয়সা ও গহনা রাখার জায়গাগুলোর তালা ভাঙা পাওয়া গেছে এবং জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তিনি জানান, মরদেহগুলো তিন থেকে চার দিন আগের হওয়ায় পচন ধরেছে।

সিআইডি কর্মকর্তা আরও জানান, বাড়িটির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। গলায় রশি বা গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ডাকাতির সঙ্গে চারজনের মৃত্যুর কী সম্পর্ক, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনাস্থলে সিআইডি ও মহানগর পুলিশের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করছেন। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানা যাবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৬ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নে।