সৌদি আরবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো আমেরিকান নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। দেশটিতে সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ হওয়া এবং ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। খবর ইউরো নিউজের।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বাহরাইন, ইসরাইল, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো জানিয়েছে, সামরিক সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি বেশ জটিল রয়ে গেছে। এই সতর্কবার্তায় লোকজনকে সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ হওয়া এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত বিঘ্ন সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, শনিবার সৌদি হামলার জবাবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোনের মাধ্যমে সৌদি আরবে দুটি পৃথক অভিযান চালানোর দাবি করার পরই এই সতর্কতা জারি করা হয়। গোষ্ঠীটির দাবি, প্রথম হামলাটি সৌদির রাজধানী রিয়াদের সংবেদনশীল স্থানগুলোকে এবং দ্বিতীয়টি ইয়ানবুর আরামকো সুবিধাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
এদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করার জন্য ২০১৫ সালে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর একজন মুখপাত্র পরবর্তীতে নিশ্চিত করেছেন যে, রিয়াদের দিকে নিক্ষিপ্ত একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল সফলভাবে প্রতিহত করেছে রয়্যাল সৌদি এয়ার ডিফেন্স ফোর্সেস। মুখপাত্র আরও যোগ করেন যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি বাইশ, তায়েফ, ফারাসান এবং ইয়ানবু শহরগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
শনিবার রিয়াদের বাসিন্দারা রাজধানীর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে বিমানবন্দরটির ওপর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরটি বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল।
গত জুলাই মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে সৌদি শহর ও সামুদ্রিক জাহাজে ক্রমবর্ধমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসে একটি তীব্র অভিযানের মাধ্যমে ইয়েমেনের বিশাল ভূখণ্ড দখল করে নেওয়া হুথিদের ওপর সৌদি আরবও পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে, তবে তাদের অগ্রগতি থামানো যায়নি।


