ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ৪৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
ফরাসি পরিবহন মন্ত্রী ফিলিপ তাবারো সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জানান, ট্রেনটিতে মোট ১৮৬ জন যাত্রী ছিলেন। এটি গত শুক্রবার নরমান্ডির রুয়েন ও কাঁর শহরের মধ্যবর্তী রুটে চলাচল করার সময় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৭:৪৫ টায়) লাইনচ্যুত হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা একটি গণ-দুর্ঘটনা মোকাবিলা পরিকল্পনা চালু করেছে এবং ঘটনাস্থলে ১৩০ জন দমকলকর্মী, পাঁচটি মেডিকেল টিম ও ৮০টি যানবাহন মোতায়েন করেছে।
রুয়েনের প্রসিকিউটর সেবাস্তিয়ান গ্যালোইস জানান, এই দুর্ঘটনায় ৪৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে সংকটজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারযোগে রুয়েন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেন-ম্যারিতিমের প্রিফেকচারের তথ্য অনুযায়ী তাকে আকাশপথে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ট্রেনে থাকা ২৪ বছর বয়সী লুই নামের এক যাত্রী স্থানীয় রেডিও স্টেশন ‘আইসি নরমান্ডি’-কে বলেন, হঠাৎ করেই কিছু ঝাঁকুনি অনুভূত হয় এবং প্রায় তিন সেকেন্ডের মধ্যে তা আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ওঠে।
তিনি আরও জানান, আমি আর আমার আসনে বসে থাকতে পারছিলাম না। জানালার কাচগুলো আংশিক ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং লাইনের পাথরগুলো বগির ভেতরে ঢুকে পড়ে। দৃশ্যটি সত্যিই ভীতিকর ছিল, আমি এখনও কাঁপছি।
ফ্রান্সের রেল নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী সংস্থা এসএনসিএফ রেসো জানিয়েছে, জরুরি সেবাগুলো যাতে নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেজন্য ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে এবং লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো যাত্রীদের প্রয়োজনীয় যত্ন নিশ্চিত করা এবং পরবর্তীতে নিরাপদ অপারেশনাল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
প্রসিকিউটর গ্যালোইস জানান, ট্রেন চালকের মাদক ও অ্যালকোহল টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। কী কারণে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হলো, তা উদঘাটনে রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।


