হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতাকে সম্ভবত কম গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
এবিসি নিউজের ডেভিড মুইরের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সোমবার তাঁর বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার জন্য একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানো এবং এর ফলে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা।
ম্যাক্রোঁ বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান বুঝতে পারে যে, তাদের হাতে একটি বড় কৌশলগত অস্ত্র রয়েছে—আর তা হলো হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা।
ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিকে আগে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেন, তিনি কাউকে দোষারোপ করতে চান না। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমি কাউকে দোষারোপ করব না। পরিস্থিতি এখন যে অবস্থায় আছে, তা-ই বাস্তবতা। আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ, যারা এই সমস্যার সমাধানে সক্ষম এবং আমাদের তাদের প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “হরমুজ প্রণালী নিয়ে পরিস্থিতিটিকে সম্ভবত কম গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছিল, আর এখন আমাদের এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।”
হরমুজ প্রণালীর নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ফ্রান্স সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারে প্রস্তুত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেন, তিনি কোনো দেশের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চান না। তবে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বজায় রাখতে ফ্রান্স আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।
ইরানে সামরিক হামলার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ধারণারও সমালোচনা করেন ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, বোমা হামলার মাধ্যমে কোনো দেশে সরকার পরিবর্তন করা বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নয় এবং অতীতেও এমন পদক্ষেপ কার্যকর হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ—ইউরোপীয় মিত্ররা ইরান ইস্যুতে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না—এ প্রসঙ্গে ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের ভালো মিত্র। তবে কোনো যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার আগে কৌশল ও সিদ্ধান্ত নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে ফ্রান্স সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কারণ তারা মনে করেছিল এটি সঠিক পথ নয়।


