জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করবেন নাকি আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেবেন—এ বিষয়ে তাকে একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে দেশটি আবারও নিজেদের শক্তিশালী করার সুযোগ পেতে পারে। তবে সংঘাতের সমাধান না হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দ্রুত ধ্বংস করার পথও বেছে নিতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনো চুক্তি হবে, যা তাদের পুনর্গঠন করতে এবং আগের চেয়েও শক্তিশালী দেশে পরিণত হতে দেবে? নাকি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেব—এবং তা দ্রুত করব, যাতে তারা আর কখনো মানুষ ও দেশকে হত্যা বা ধ্বংস করার সুযোগ না পায়?”
ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে দূরে রেখেছে। তিনি এটিকে তার ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ নীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
জাতিসংঘের মঞ্চে দেওয়া এ ভাষণে ট্রাম্পের বড় অংশজুড়ে ছিল ইরান প্রসঙ্গ। এর আগে তিনি অর্থনীতি, অভিবাসন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সহিংস অপরাধ দমনে নিজের সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।
ইরান ইস্যুতে কঠোর বক্তব্য দেওয়ার দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে। ট্রাম্প জানান, জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পরে উইটকফ জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং তা গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক ছিল।
ভাষণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় শিগগিরই এ যুদ্ধের অবসান ঘটবে।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এআই নিয়ন্ত্রণের দাবিকে তিনি ‘বিশ্ববাদী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রযুক্তির নেতৃত্ব ধরে রাখবে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহারের পক্ষে মত দেন।
ট্রাম্প জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “কোনো বিশ্ব সরকার নেই” এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ওপর জোর দেন।
ভাষণে কিউবার সরকারকেও আক্রমণ করেন ট্রাম্প। তিনি দেশটিকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময় কিউবার প্রতিনিধিদলকে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গেও একটি চুক্তি করেন, যেখানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের বিষয়টি রয়েছে। এ ছাড়া তিনি ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।


