...|...|...

বিশ্ব

পর্তুগালে গোল্ডেন ভিসায় নতুন উদ্যোগ, ২০২৭ সালে নিষ্পত্তি হবে আবেদন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:২৯
Shares
পর্তুগালে গোল্ডেন ভিসায় নতুন উদ্যোগ, ২০২৭ সালে নিষ্পত্তি হবে আবেদন

ছবি: সংগহীত

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য গোল্ডেন ভিসার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিচ্ছে পর্তুগাল সরকার। ২০২৭ সালে এ কর্মসূচির আওতায় জমা পড়া আবাসন অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়াকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের আবেদন নিষ্পত্তিতে গতি আসতে পারে।

পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম দ্য পর্তুগাল নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় বাজেট নিয়ে সংসদে আলোচনার সময় প্রেসিডেন্সিমন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাও আমারো এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রী জানিয়েছেন, গোল্ডেন ভিসার আবেদনগুলো নিয়মিত করা এবং দ্রুত নিষ্পত্তি করা আগামী বছরের অন্যতম সরকারি অগ্রাধিকার হবে।

গোল্ডেন ভিসা থেকে সরকারের আয়

পর্তুগালের গোল্ডেন ভিসার আনুষ্ঠানিক নাম ‘রেসিডেন্স পারমিটস ফর ইনভেস্টমেন্ট অ্যাক্টিভিটি’ (এআরআই)। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ও অন্যান্য আইনি শর্ত পূরণ করে দেশটিতে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ পান।

আবেদন প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে দেশটির অভিবাসন সংস্থা এআইএমএ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি আবাসন অনুমতিপত্রের জন্য প্রায় ৬ হাজার ইউরো পর্যন্ত ফি আদায় হতে পারে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিবাসনসেবা আরও কার্যকর করার পাশাপাশি আবেদনকারীদের কাছ থেকে পাওয়া ফি সংস্থাটির পরিচালন ব্যয় মেটাতেও ভূমিকা রাখবে।

কোন বিনিয়োগে পাওয়া যায় গোল্ডেন ভিসা?

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ২০১২ সালে গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি চালু করে পর্তুগাল। এর আওতায় নির্ধারিত বিনিয়োগের শর্ত পূরণকারী বিদেশি নাগরিক এবং তাদের যোগ্য পরিবারের সদস্যরা বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ পান।

তবে ২০২৩ সালে আইন সংশোধনের পর নতুন আবেদনকারীদের জন্য আবাসিক সম্পত্তি কেনার মাধ্যমে গোল্ডেন ভিসা পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়।

বর্তমানে কয়েকটি নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ কর্মসূচিতে আবেদন করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে

  • নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন বিনিয়োগ তহবিল।
  • বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অর্থায়ন।
  • সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্পে বিনিয়োগ।
  • নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যবসায়িক বিনিয়োগ।

পুরোনো আবেদনকারীদের জন্য কী হবে?

যারা আগে থেকেই গোল্ডেন ভিসা পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি শর্ত ও নিয়ম মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে নির্ধারিত বিনিয়োগ বজায় রাখা এবং আবাসন অনুমতির অন্যান্য শর্ত পূরণের বিষয়ও রয়েছে।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াধীন থাকা আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিতে অগ্রগতি আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব বিদেশি বিনিয়োগকারী আবেদন করে দীর্ঘ সময় ধরে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের জন্য এটি স্বস্তির খবর হতে পারে।

সব মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অভিবাসনসেবা কার্যক্রমে গতি আনতে গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে পর্তুগাল। ২০২৭ সালে আবেদন নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা কার্যকর হলে দেশটিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বসবাসের অনুমতি পেতে আগ্রহীদের অপেক্ষার সময় কমতে পারে। তবে এটি সরকারের পরিকল্পনা; দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নিশ্চিত নয়।