...|...|...

তথ্যপ্রযুক্তি

নতুন গ্রহের সন্ধানে মহাকাশে যাচ্ছে নাসার রোমান টেলিস্কোপ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:৫০ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৩:১৭
Shares
নতুন গ্রহের সন্ধানে মহাকাশে যাচ্ছে নাসার রোমান টেলিস্কোপ

নতুন গ্রহের সন্ধানে নাসার রোমান টেলিস্কোপ। ছবি: সংগৃহীত

মহাবিশ্বের অজানা রহস্যের সন্ধানে নতুন মহাকাশ টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’ ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটার নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেটের সন্ধান করবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে নাসার নতুন এই মহাকাশ টেলিস্কোপের উৎক্ষেপণ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। নাসার সর্বশেষ আপডেটেও ৩০ আগস্ট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রোমান টেলিস্কোপটি ৩০ আগস্ট ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯এ থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় সকাল ৭টা ২৬ মিনিট (ইডিটি), যা বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২৬ মিনিট। তবে এটি ‘no earlier than’ সময়, অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুযায়ী উৎক্ষেপণের সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে টেলিস্কোপটির নামকরণ করা হয়েছে। 

রোমান টেলিস্কোপের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য এর বিস্তৃত পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। এর ওয়াইড ফিল্ড ইন্সট্রুমেন্ট হাবল টেলিস্কোপের তুলনায় অন্তত ১০০ গুণ বেশি আকাশের এলাকা একসাথে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ছায়াপথের আলো বিশ্লেষণ করে মহাবিশ্বের গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

মিশনটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এর পেছনে ডার্ক এনার্জির ভূমিকা কী, তা বোঝার চেষ্টা করবেন বিজ্ঞানীরা। একই সাথে মহাকর্ষের প্রভাবে আলো বাঁকানোর ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে মহাবিশ্বের কাঠামো ও আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব নিয়েও গবেষণা করা হবে।

এক্সোপ্ল্যানেট অনুসন্ধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে রোমান। টেলিস্কোপটি বিভিন্ন গ্রহব্যবস্থার পরিসংখ্যান তৈরি করবে এবং হাজার হাজার নতুন বহির্গ্রহ শনাক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর করোনাগ্রাফ যন্ত্রের মাধ্যমে দূরবর্তী নক্ষত্রের আলো আড়াল করে কিছু এক্সোপ্ল্যানেট সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগও তৈরি হবে।

রয়টার্স জানিয়েছে, রোমানের বিস্তৃত জরিপে ২০০ কোটির বেশি ছায়াপথ পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে সময়ের সাথে ছায়াপথ ও মহাবিশ্বের বৃহৎ কাঠামো কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং পরিবর্তিত হয়েছে, তা বোঝার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

উৎক্ষেপণের পর রোমান টেলিস্কোপ পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরের সূর্য-পৃথিবীর দ্বিতীয় ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট (L2)-এর দিকে যাবে। একই অঞ্চলে রয়েছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। রোমানের প্রাথমিক মিশন পাঁচ বছরের জন্য পরিকল্পিত হলেও প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে।

নাসার আশা, নতুন এই পর্যবেক্ষণাগার মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ, ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি ও বহির্গ্রহ সম্পর্কে এমন তথ্য দেবে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণার পথ আরও প্রসারিত করবে।