কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের হাতে উন্নত এআই প্রযুক্তি গেলে তা বিপুল প্রাণহানির কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস এ সতর্কবার্তা দেন।
গেটস বলেন, এআই এমন ঘটনা ঘটানোর সক্ষমতা রাখে, যার পরিণতিতে ১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। তবে এমন ঘটনা প্রায় নিশ্চিতভাবে ঘটবে এমনটা বলা কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার মতে, অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের হাতে অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তির মতো শক্তিশালী কোনো প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এর আগে ছিল না। তাই এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।
এআইয়ের সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ ও এর নিরাপদ ব্যবহারের জন্য সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে আলোচনায় যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন গেটস।
তিনি বলেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নজরদারি থাকবে, তা নির্ধারণে আইনপ্রণেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গেটসের মতে, এতে প্রযুক্তি খাতের ওপর কিছু অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়বে; তবে এর ফলে এআই উন্নয়নের গতি নাটকীয়ভাবে কমে যাবে না।
বিল গেটসের এই মন্তব্যের কয়েক দিন আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যালান টিউরিং ইনস্টিটিউটও এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এমন ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ এআই ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা রয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ অনেক জ্ঞানগত কাজে মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই এমন কৌশল তৈরি করতে সক্ষম হলে, যা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারবে না, সেক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তির ওপর কার্যকর মানব নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদনে সম্ভাব্য রাসায়নিক ও জৈবিক হুমকির পাশাপাশি তথ্য পরিবেশ এবং বৃহত্তর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই ফ্রন্টিয়ার এআইয়ের উন্নয়নে সাময়িক বিরতি, তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়ন এবং অভিন্ন নিরাপত্তা মানদণ্ড চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চুক্তিরও প্রস্তাব দেন তিনি।
অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনও চলতি দশকের শেষ নাগাদ এআইয়ের কারণে মানবজাতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্সের প্রধান ইভান হাবিঙ্গারও আগামী এক দশকের মধ্যে এমন ঘটনার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

