...|...|...

বিশ্ব

নিজের ‘চেহারা’ ভাড়া দিচ্ছেন চীনা নাগরিকরা, আয় ১৮ লাখ টাকা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৪১ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৪৪
Shares
নিজের ‘চেহারা’ ভাড়া দিচ্ছেন চীনা নাগরিকরা, আয় ১৮ লাখ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

ভিডিও, বিজ্ঞাপন কিংবা গেমে ব্যবহারের জন্য নিজের চেহারা বা মুখাবয়বের লাইসেন্স বিক্রি করে নতুন এক উপার্জনের পথ বেছে নিয়েছেন চীনের সাধারণ মানুষ। এআই প্রযুক্তির কল্যাণে ডিজিটাল অভিনেতা হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে অনেকেই ঘরে বসে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবি বা ভিডিও ব্যবহারের ধরণ অনুযায়ী এর মূল্য ৫০ ইউয়ান (প্রায় ৭ ডলার) থেকে শুরু করে ১ লাখ ইউয়ান বা প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা) পর্যন্ত হতে পারে। এই নতুন ব্যবসায়িক মডেলের মাধ্যমে মানুষ ক্যামেরার সামনে সরাসরি উপস্থিত না হয়েও নিজেদের চেহারা বা অবয়ব ‘ভাড়া’ দিতে পারছেন।

উল্লেখ্য, একবার কোনো ব্যক্তির চেহারা ডিজিটালি ধারণ বা ক্যাপচার করার পর, এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তার আদলে যেকোনো নতুন ফুটেজ তৈরি করা সম্ভব।

ক্যামেরার সামনে না এসেই অর্থ উপার্জন

হুয়াং নামের ২৭ বছর বয়সী এক ব্যাংক কর্মী অনলাইনে অন্যদের দেখে নিজের চেহারার স্বত্ব বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে তার ছবি সাতবার লাইসেন্স বা ব্যবহারের অনুমতি পায়, যার বিনিময়ে তিনি আয় করেন প্রায় ২ হাজার ৬০০ ইউয়ান বা প্রায় ৩৭০ মার্কিন ডলার।

শুধু হুয়াং একা নন, চীনের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এখন এআই-ভিত্তিক কনটেন্ট প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর সাথে এমন সাধারণ মানুষদের যুক্ত করছে, যারা নিজেদের চেহারা ভাড়া দিতে ইচ্ছুক। অবশ্য লাইসেন্সের শর্ত, ছবির ব্যবহার এবং ব্যক্তির চেহারার ওপর ভিত্তি করে এর দাম ভিন্ন হয়ে থাকে।

তবে বিজ্ঞাপনে উল্লেখিত সর্বোচ্চ আয়ের অঙ্কটিকে সাধারণ উপার্জন হিসেবে ধরে নেওয়া ভুল হবে। প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘রেস্ট অব ওয়ার্ল্ড’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের উদীয়মান এআই বিনোদন শিল্পে অনেকেই প্রতি পর্বের জন্য মাত্র ১৫ থেকে ৭৪ ডলার সমপরিমাণ অর্থের বিনিময়ে তাদের চেহারার লাইসেন্স দিয়েছেন।

আপনার মুখ যখন এআই অভিনেতা

চীনের দ্রুত বর্ধনশীল এআই-নির্মিত ছোট নাটকের বাজারে এই প্রযুক্তির চাহিদা রয়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি দৃশ্যের জন্য আলাদা করে অভিনেতা ভাড়া করার পরিবর্তে নির্মাতারা কোনো ব্যক্তির অবয়ব ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে নেন এবং এরপর ওই ডিজিটাল চরিত্রের মাধ্যমে ফুটেজ তৈরি করে নেন।

এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন ব্যক্তির চেহারার পোশাক, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, নড়াচড়া এমনকি সংলাপও বদলে ফেলা যায়। এর জন্য মূল ব্যক্তিকে বারবার স্টুডিওতে আসার প্রয়োজন হয় না। কিছু প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের নিজেদের ছবি আপলোড করার সুযোগ দেয়, যাতে সম্ভাব্য ক্রেতারা তাদের ডিজিটাল রূপটি বেছে নিতে পারেন। এর ফলে এটি গিগ ইকোনমির একটি নতুন রূপ নিয়েছে, যেখানে মানুষ নিজেদের সময় বা শ্রম নয়, বরং চেহারাকে পুঁজি করে অর্থ উপার্জন করছে।

আপনার এআই চেহারার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

এই অভিনব উপার্জনের পথটি যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি এটি সম্মতি ও গোপনীয়তার প্রশ্নও সামনে এনেছে। এআই নির্মাতাদের কাছে নিজের চেহারার লাইসেন্স দেওয়ার অর্থ হলো, ওই ব্যক্তি বাস্তবে কখনো অংশ নেননি—এমন কোনো পরিস্থিতিতেও তার ডিজিটাল রূপটি ব্যবহার করা হতে পারে।

এই কারণে চুক্তিপত্রের শর্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেমন—কোনো কোম্পানি কতদিন পর্যন্ত ওই অবয়ব ব্যবহার করতে পারবে, কী ধরনের কনটেন্টে তা ব্যবহার করা যাবে এবং তা পুনরায় লাইসেন্স বা সাবলাইসেন্স দেওয়া যাবে কি না।

জেনারেটিভ এআই-এর দ্রুত প্রসারের মুখে ডিপফেক ও কৃত্রিমভাবে তৈরি মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে ইতিমধ্যে কিছু নিয়ম চালু করেছে চীন। তবে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল মুখের বাণিজ্যিক বাজারও দ্রুত প্রসার লাভ করছে। হুয়াংয়ের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এটি প্রচলিত অভিনয় পেশা ছাড়াই বাড়তি আয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে, আর এআই নির্মাতারা পাচ্ছেন ভার্চুয়াল পারফর্মার তৈরির জন্য মানব মুখের এক বিশাল ভাণ্ডার।