...|...|...

বিশ্ব

দক্ষিণ সুদানে সরকার ভেঙে দিলেন প্রেসিডেন্ট

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০৮
Shares
দক্ষিণ সুদানে সরকার ভেঙে দিলেন প্রেসিডেন্ট

দক্ষিণ সুদানের প্রেসিডেন্ট সালভা কির। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ সুদানের ইতিহাসে প্রথম জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় ঐক্য সরকার ভেঙে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সালভা কির। একই সাথে তিনি একটি তদারকি প্রশাসন নিয়োগ করেছেন। 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তির অধীনে গঠিত ক্ষমতার অংশীদারত্ব ব্যবস্থার অবসান ঘটল, যা দেশটিতে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রেখেছিল।

জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমে পড়ে শোনানো এই ডিক্রিতে বলা হয়, সব ভাইস প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী এবং স্থানীয় প্রশাসকদের অপসারণ করা হয়েছে এবং জাতীয় ও রাজ্য আইনসভাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো যথারীতি বহাল থাকবে। পরবর্তী নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত নির্বাচনী পুরো সময়কালে কির ক্ষমতায় বহাল থাকবেন।

প্রসঙ্গত, জাতীয় নির্বাচন আইনে পার্লামেন্টের সংশোধনী অনুমোদনের মাত্র একদিন পরই এই ডিক্রি জারি করা হলো। ওই সংশোধনীতে ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তির অধীনে নিযুক্ত সব ভাইস প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দিয়ে নির্বাচনী অন্তর্বর্তী সময়ে কিরকে একক ক্ষমতায় থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। এর ফলে স্থায়ী কোনো সংবিধান প্রণয়ন কিংবা আদমশুমারি সম্পন্ন না করেই আগামী ২২ ডিসেম্বরের নির্ধারিত নির্বাচনের দিকে এগোতে পারবে দক্ষিণ সুদান—যা আগে রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত ছিল। তবে দেশটির মূল বিরোধী রাজনৈতিক জোট এই আইনি পরিবর্তনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

দেশটিতে এই নির্বাচন মূলত ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা দুই দফা পেছানো হয়। ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তির অধীনে স্থায়ী সংবিধানের খসড়া তৈরি, ভোটারদের তালিকাভুক্তি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর অনুগত সশস্ত্র বাহিনীকে একীভূত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এখনও সম্পন্ন হয়নি। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই শান্তি চুক্তির আগে দেশটিতে পাঁচ বছরের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে প্রায় ৪ লাখ মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সালভা কিরের এই ডিক্রিকে প্রথম জাতীয় নির্বাচনের পথে একটি ‘চূড়ান্ত পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে সংস্থাটির পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক টাইগার চাগুথাহ সাধারণ মানুষের ভোটদান এবং প্রার্থী হওয়ার জন্য একটি অনুকূল ও অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই পরিবর্তনগুলোর মাধ্যমে কিরকে কার্যত নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে। সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সাবেক সদস্য ও আইনজীবী মাইকেল ওয়ানি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রিসভা ও পার্লামেন্ট ছাড়াই কির এখন ক্ষমতার একমাত্র ব্যক্তিতে পরিণত হবেন।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র বিশ্লেষক মাচত আমুয়ম এএফপিকে জানান যে এই আইনি পরিবর্তনে মারাত্মক ‘অস্পষ্টতা’ রয়েছে। তিনি বলেন, নতুন আইনটি প্রেসিডেন্টকে পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছে... তিনি চাইলে নির্বাচন আরও এক বা দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন।