দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা পদত্যাগ করেছেন। দেশটির অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল ব্যাংক ‘উয়েনো ব্যাংক’ ধসে পড়ার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক ও আর্থিক সংকটের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। ব্যাংকটির সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগও নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন পেনা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ তথ্য জানিয়েছে।
ভিডিও বার্তায় পেনা বলেন, ‘আমি যদি কোনো পর্যায়ে ব্যর্থ হয়ে থাকি, তবে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না।’
তিনি আরও জানান, দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষার স্বার্থেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্যারাগুয়ের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান উয়েনো ব্যাংকের আর্থিক সংকট ঘিরেই দেশটিতে অস্থিরতা শুরু হয়। ব্যাংকটি দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়লে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহক তাঁদের অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ তুলতে পারছেন না। এই সংখ্যা দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬০ শতাংশ।
ব্যাংকটিতে সরকারি বিভিন্ন তহবিল ও পেনশনের বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ছিল। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকট সামনে আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এদিকে পেনার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত, পেনশন তহবিলের অপব্যবহার এবং ব্যাংকটির অনিয়ম আড়াল করার অভিযোগ তোলেন আইনপ্রণেতারা। গত বছর পর্যন্ত উয়েনো ব্যাংকের মালিকানাধীন কোম্পানির শেয়ারধারী ছিলেন তিনি। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পেনা।
সংকটের জেরে রাজধানী আসুনসিওনে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নামেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকসহ সাধারণ মানুষ। একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন কোলোরাডো পার্টির একাংশও পেনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
পেনা পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটির কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব ৭৮-০ ভোটে অনুমোদিত হয়।
এদিকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নতুন প্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
২০২৩ সালে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল কোলোরাডো পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সান্তিয়াগো পেনা। তার পদত্যাগের পর সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে।


