বুলগেরিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রেসিডেন্ট পেতে যাচ্ছে দেশটি। প্রাথমিক ফলাফলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে এগিয়ে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইওতোভা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে গুরভ ইতিমধ্যে পরাজয় স্বীকার করেছেন।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, রবিবার (১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে বিভিন্ন জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইওতোভা পেয়েছেন প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে গুরভ পেয়েছেন প্রায় ৩৮ শতাংশ। সোমবার আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার কথা রয়েছে। এতে ইওতোভার জয় নিশ্চিত হলে তিনিই হবেন দেশটির প্রথম নির্বাচিত নারী রাষ্ট্রপ্রধান।
পাশ্চাত্যপন্থী বিরোধী শিবিরের সমর্থনপুষ্ট গুরভ বলেছেন, ভোটারদের রায় মেনে নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘বুলগেরিয়ার নাগরিকরা এভাবেই ভোট দিয়েছেন।’
ইওতোভার জয়ের সম্ভাবনায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং জ্বালানি স্বাধীনতার মতো বিষয়ে ইওতোভার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
এক্সিট পোল অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ২৭ থেকে ২৯ শতাংশ। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে উপস্থিতির হার ছিল ২৩ শতাংশ, যা দেশটির ইতিহাসে রেকর্ড সর্বনিম্ন।
৬১ বছর বয়সী ইওতোভা গত জানুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পদত্যাগ করার পর তিনি এই দায়িত্ব পান। পরে রাদেভ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দুই প্রার্থীর অবস্থানও নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইওতোভা রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার পক্ষে এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধী। অন্যদিকে গুরভ রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধের ওপর জোর দিয়েছেন।
সম্প্রতি কৃষ্ণসাগরের উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ধারাবাহিক ড্রোন হামলার পর ২১ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নির্বাচনের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবের অংশ হিসেবে এসব হামলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ হামলার পেছনে মস্কোর স্বার্থ থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। এ ঘটনায় রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হলেও হামলার সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
দুই প্রার্থীই হামলার নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে গুরভের অভিযোগ, ইওতোভা সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেননি। জবাবে ইওতোভা বলেছেন, ‘কেবল আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি আসতে পারে।’ ভোট দেওয়ার পর তিনি একটি শক্তিশালী ইউরোপের মধ্যে শক্তিশালী ও সার্বভৌম বুলগেরিয়া গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রেসিডেন্ট পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও বুলগেরিয়ার রাজনীতিতে এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রথম দফার ভোটে ইওতোভা ৩৫ শতাংশ এবং গুরভ ৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। জনমত জরিপে ইওতোভা প্রায় ২০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও প্রাথমিক ফলাফলে ব্যবধান তার চেয়ে অনেক কম দেখা যাচ্ছে।


