...|...|...

খেলা

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ১১ মাসের অনুসন্ধানে ভয়াবহ চিত্র

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৫২
Shares
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ১১ মাসের অনুসন্ধানে ভয়াবহ চিত্র

ছবি: সংগৃহীত

জেলার মাঠ থেকে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের বিভিন্ন স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানী নিউজরুম পোর্টাল ‘দ্য হুইসেল’-এর ১১ মাসের অনুসন্ধানে ৬৭ জন নারী ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকার ও অপ্রকাশিত গোপন নথির ভিত্তিতে উঠে এসেছে এমনই এক উদ্বেগজনক চিত্র।

দ্য হুইসেলের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বাবু ও আবু সাঈদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলে সুযোগ পাওয়া, একাদশে জায়গা ধরে রাখা কিংবা কেন্দ্রীয় চুক্তিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নির্দিষ্ট কিছু কোচ ও নির্বাচকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। এই ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তারা তরুণ ও উদীয়মান নারী ক্রিকেটারদের কাছে নানা ধরনের কুপ্রস্তাব দেন এবং যৌন হয়রানি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রস্তাবে সাড়া না দিলে খেলোয়াড়দের দল থেকে বাদ রাখা, মানসিকভাবে নির্যাতন করা এবং একপর্যায়ে ক্রিকেট ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

খুলনা, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক পর্যায়ে বিসিবির বেতনভুক্ত ও প্রভাবশালী কোচদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। তবে সামাজিক চাপ, পরিবার এবং ক্যারিয়ার হারানোর আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা এতদিন প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম কোচ মঞ্জুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ও স্বাধীন অভিযোগ কমিটি কিংবা পূর্ণাঙ্গ কোনো কাঠামো গড়ে ওঠেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অভিযোগ জানানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় ভুক্তভোগীরা চাইলেও প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ পাননি।

২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম নিউজিল্যান্ড সফরে তৎকালীন নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। এরপর বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে সাবেক এক বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সেই প্রতিবেদন দীর্ঘ নয় মাসেও প্রকাশ করেনি বিসিবি।

গত অক্টোবরে ব্যাপক সমালোচনার পর বিসিবি নিজেদের ওয়েবসাইটে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সেফগার্ডিং নীতিমালা’ প্রকাশ করে। তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশের অধিকাংশ নারী ক্রিকেটার, এমনকি জাতীয় দলের নির্বাচকদেরও এ নীতিমালা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই।

নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধে বিসিবির আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্রীড়া বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা জরুরি।