...|...|...

বিশ্ব

ভারত সীমান্তের কাছে এক দিনে ১০৮ প্যাগোডা নির্মাণ করল ভুটান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:১১
Shares
ভারত সীমান্তের কাছে এক দিনে ১০৮ প্যাগোডা নির্মাণ করল ভুটান

ছবি: সংগৃহীত

ভুটানের দক্ষিণাঞ্চলে ভারত সীমান্তের কাছে এক দিনেই ১০৮টি বৌদ্ধ স্তূপের বাহ্যিক কাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) গেলফু শহরে প্রায় ৪০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের অংশগ্রহণে এই নির্মাণকাজ শেষ হয়। এ সময় বিভিন্ন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের গুরু এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় দুই লাখ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠা ‘গেলফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’র গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই প্রকল্প। বুদ্ধের বোধিপ্রাপ্তির প্রতীক হিসেবে নির্মিত স্তূপগুলো শহরটির ভিত্তি স্থাপনের প্রতীকী আয়োজনের অংশ।

প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট ১০৮’। এর আওতায় মাও চু নদীর তীরে সারিবদ্ধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে স্তূপগুলো। প্রতিটির উচ্চতা প্রায় ৫০ ফুট বা ১৫ মিটার। একটির সঙ্গে অন্যটির দূরত্ব প্রায় ৩৫৪ ফুট বা ১০৮ মিটার। বৌদ্ধধর্মে ১০৮ সংখ্যাটিকে পবিত্র বলে বিবেচনা করা হয়।

তবে এক দিনে নির্মাণকাজ শেষ হলেও এর প্রস্তুতি চলেছে কয়েক মাস ধরে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্তূপগুলোর ভেতরে রাখা হবে প্রার্থনা, আশীর্বাদ, পবিত্র অবশেষ ও আধ্যাত্মিক গ্রন্থ। বজ্রযান বৌদ্ধধর্মে এসব স্তূপকে ‘জাংচুব চোরতেন’ বলা হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এটি শুধু প্রকৌশলগত অর্জন নয়, বরং বিশ্বের মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করা একটি সম্মিলিত উপহার। বৌদ্ধ ঐতিহ্যে স্তূপ নির্মাণকে অত্যন্ত পুণ্যময় কাজ হিসেবে দেখা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এর সংস্পর্শে আসা মানুষের জন্যও তা আধ্যাত্মিক কল্যাণ বয়ে আনে।

রাতে স্তূপগুলোর পাদদেশে সমবেত হন বিপুলসংখ্যক ভক্ত। তাদের হাতে ছিল হলুদ আলোর গোলক। প্রার্থনা ও মন্ত্রোচ্চারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

প্রায় ১০ হাজার মানুষের ছোট শহর গেলফু ভারতের সীমান্তের কাছে দক্ষিণ ভুটানে অবস্থিত। রাজধানী থিম্পু থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৪০ কিলোমিটার। ডেনিশ স্থপতিদের নকশায় গড়ে ওঠা গেলফু মাইন্ডফুলনেস সিটিকে পরিবেশবান্ধব ও নাগরিকদের সুখ-কল্যাণকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বেকারত্ব, জন্মহার হ্রাস এবং দক্ষ কর্মীদের দেশত্যাগের মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই শহরকে ঘিরে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ভুটানের আশা, নতুন এই নগরী অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি তরুণদের দেশে থাকার মতো কর্মসংস্থান ও সুযোগ তৈরি করবে।

ভুটানের রাষ্ট্রীয় দর্শন ও সংস্কৃতিতে বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের গভীর প্রভাব রয়েছে। দেশটির ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ বা সামগ্রিক জাতীয় সুখের ধারণায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি শান্তি, পরিবেশ সুরক্ষা ও মানুষের সামগ্রিক কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নতুন ১০৮টি স্তূপ সেই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন।