...|...|...

বিশ্ব

বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর দিল থাইল্যান্ড

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২৪
Shares
বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর দিল থাইল্যান্ড

ছবি: সংগৃহীত

তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে থাইল্যান্ডের ফলের বাগানগুলোতে গাছ থেকেই ফল পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে থাই সরকার। 

সম্প্রতি জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় ফল উৎপাদনকারী চান্তাবুরি প্রদেশে ডুরিয়ান, ম্যাঙ্গোস্টিন এবং রামবুটানের মতো ফল উৎপাদিত হয়। সেখানে বর্তমানে কৃষকরা শ্রমিক পাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়েছেন। স্থানীয় উৎপাদক জমসক পুথিরাত্তানা জানান, সীমান্ত বিরোধের কারণে বেশ কয়েকজন কম্বোডিয়ান শ্রমিক চলে যাওয়ার পর কিছু এলাকায় দৈনিক মজুরি ৩৫০-৪০০ বাথ থেকে বেড়ে ৮০০-১০০০ বাথ পর্যন্তে পৌঁছে গেছে। এত চড়া মূল্যে শ্রমিক রেখে কম দামি ফল সংগ্রহ করা কৃষকদের জন্য লাভজনক নয়।

অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীলতা

থাইল্যান্ডের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় দশভাগের একভাগই অভিবাসী শ্রমিক। ঐতিহ্যগতভাবে মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওসের কর্মীরা দেশটির খামার, নির্মাণ সাইট এবং কারখানায় কাজ করে আসছেন; যেখানে স্থানীয় থাই নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া নিয়োগকর্তাদের জন্য বেশ কঠিন। একই সাথে ব্যাংককসহ বড় বড় শহরগুলোর সেবা খাতেও দিন দিন অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে।

বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে কর্মী আসার হারও কমে গেছে। কম্বোডার সাথে সীমান্ত বিরোধের কারণে অনেক কম্বোডিয়ান থাইল্যান্ড ছেড়ে চলে গেছেন, অন্যদিকে মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কর্মসংস্থানের নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন শ্রমিক নিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আগামী জানুয়ারিতে আসছে প্রথম ব্যাচ

থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রী জুলপান আমর্নভিভাত জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারি নাগাদ শ্রীলঙ্কা থেকে প্রথম চালানের কর্মীরা দেশটিতে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যাদের মূলত নির্মাণ প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত করা হবে। এছাড়া থাইল্যান্ড প্রায় ১০ হাজার মানুষের একটি পাইলট বা পরীক্ষামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে এবং আগামী বছর নেপাল ও বাংলাদেশের সাথে শ্রম চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে নির্মাণ খাতে শ্রমের চাহিদা অত্যন্ত তীব্র। থাই কন্টাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিসা ঙামত্রাকুলপানিত জানান, প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ লাখ মানুষের এই শিল্প খাতের মোট কর্মীবাহিনীর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই অভিবাসী শ্রমিক। পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিত দ্রুত নবায়ন এবং বর্তমানে দেশে কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানরতদের বৈধতা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচিও প্রস্তুত করছে সরকার।