জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জাতিসংঘের বিশেষ তহবিল থেকে অর্থ সহায়তা পেতে যাচ্ছে নেপাল। ‘ক্ষতি ও লোকসান’ (লস অ্যান্ড ড্যামেজ) তহবিল থেকে ২ কোটি ডলার বরাদ্দের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে জলবায়ুজনিত আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তহবিলটির প্রথম সহায়তাপ্রাপ্ত দেশ হতে যাচ্ছে হিমালয়ঘেরা দেশটি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
২০২৩ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা দিতে তহবিলটি গঠন করা হয়। সম্প্রতি নেপালের জন্য ২ কোটি ডলার বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির ভয়াবহ বন্যাসহ জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
নেপালের অবকাঠামো ও অর্থনীতিতে দুর্যোগের কারণে প্রায় ২৭০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। সেই তুলনায় বরাদ্দ করা ২ কোটি ডলার মোট ক্ষতির মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। ফলে ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় সহায়তার পরিমাণ খুবই কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এ সহায়তাকে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও নেপালের প্রতি সংহতির ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির মতে, তহবিলটি কার্যকর হওয়ার পর আকস্মিক জলবায়ু দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো দেশকে সহায়তার ক্ষেত্রে এটি প্রথম পদক্ষেপ।
গত ৩১ আগস্ট নেপাল সরকার তহবিল থেকে ২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়ে আবেদন করে। দেশটির অর্থমন্ত্রী ড. স্বর্ণিম ওয়াগলে আবেদনে উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান নগণ্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেশটিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই দ্রুত, নমনীয় ও কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন।
তবে সহায়তার পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন জলবায়ু কর্মী ও নেপালের পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য রাজেন্দ্র বাগজাইন। তার মতে, ২ কোটি ডলারের এই অর্থ নেপালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।
এদিকে, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ থেকে পুনরুদ্ধারে উন্নয়নশীল দেশগুলো এ তহবিলের কাছে ১৭৬টি আবেদনের মাধ্যমে মোট ২৮০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে। বিপরীতে উন্নত দেশগুলো তহবিলে মাত্র ৮০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।


