দই প্রোটিন, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ভালো উৎস। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় অনেকেই নিয়মিত দই রাখেন। তবে দই সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। বিশেষ করে ল্যাকটোজ ইন্টলারেন্স বা দুধে অ্যালার্জি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের দই খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ল্যাকটোজ ইন্টলারেন্স থাকলে
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে থাকা প্রাকৃতিক চিনি হলো ল্যাকটোজ। শরীরে ল্যাকটেজ নামের এনজাইম পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে ল্যাকটোজ হজমে সমস্যা হয়। একে ল্যাকটোজ ইন্টলারেন্স বলা হয়।
দুধের তুলনায় অনেকের কাছে দই সহজে সহনীয় হতে পারে। কারণ দই তৈরির গাঁজন প্রক্রিয়ায় কিছুটা ল্যাকটোজ কমে যায়। তবে সবার ক্ষেত্রে বিষয়টি একই নয়। দই খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে অস্বস্তি বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই দই খাওয়ার পর নিয়মিত হজমের সমস্যা হলে নিজের সহনশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
দুধে অ্যালার্জি থাকলে
দুধে অ্যালার্জি ল্যাকটোজ ইন্টলারেন্সের মতো নয়। এটি দুধে থাকা প্রোটিনের বিরুদ্ধে শরীরের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এর ফলে আমবাত, শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যাওয়া, বমি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে জীবন-ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
যাদের দুধে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দইসহ দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া উচিত নয়। আগে গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে নিজের উদ্যোগে দই খেয়ে সহনশীলতা পরীক্ষা করাও ঠিক নয়।
দইয়ের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ
সব ধরনের দইয়ের পুষ্টিগুণ এক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া বা ফ্লেভারযুক্ত দইয়ের তুলনায় সাধারণ ও মিষ্টিবিহীন দই দৈনন্দিন খাবারের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে।
প্যাকেটজাত দই কেনার সময় উপাদান ও পুষ্টিগুণের লেবেল দেখে নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত চিনি নেই- এমন দই বেছে নেওয়া ভালো। স্বাদ বাড়াতে চাইলে সাধারণ দইয়ের সাথে তাজা ফল, বাদাম বা বীজ যোগ করা যেতে পারে।
দই খেয়ে অস্বস্তি হলে
দই খাওয়ার পর বারবার পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে অস্বস্তি বা ডায়রিয়া হলে বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। এর পেছনে ল্যাকটোজ ইন্টলারেন্স, অন্য কোনো হজমের সমস্যা কিংবা নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি সংবেদনশীলতা থাকতে পারে।
এ ধরনের সমস্যা নিয়মিত হলে চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রয়োজনীয় পুষ্টির উৎস বাদ দেওয়া ঠিক নয়। দই বা অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হলে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের বিকল্প উৎসও খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।
তাহলে দই কি সবার জন্য উপকারী?
দই যারা ভালোভাবে হজম করতে পারেন, তাদের জন্য প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের একটি ভালো উৎস হতে পারে। তবে কোনো একটি খাবার সবার জন্য অপরিহার্য নয়। একই ধরনের পুষ্টি অন্যান্য খাবার থেকেও পাওয়া সম্ভব।
তাই দই খেলেই সবার উপকার হবে- এমন ধারণা ঠিক নয়। ব্যক্তির হজমক্ষমতা, খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অবস্থার ওপর দই খাওয়ার উপযোগিতা নির্ভর করে।
কতটা দই খাওয়া উচিত?
দই খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। ব্যক্তির সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টির চাহিদা ও দই সহ্য করার ক্ষমতার ওপর পরিমাণ নির্ভর করে।
সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে পরিমিত দই খেলে প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। শাকসবজি, ডাল, গোটা শস্যসহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সাথে দই খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।


