...|...|...

বিনোদন

গাজায় হত্যাকাণ্ডের গোপন ব্যবস্থা ফাঁস ইসরায়েলি নির্মাতার প্রামাণ্যচিত্রে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:০৯ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৩৮
Shares
গাজায় হত্যাকাণ্ডের গোপন ব্যবস্থা ফাঁস ইসরায়েলি নির্মাতার প্রামাণ্যচিত্রে

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এবং গাজা যুদ্ধে ব্যবহৃত গোপন সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে নির্মিত নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ তে ২৪ জন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তার সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), নজরদারি ও দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ফিলিস্তিনিদের হত্যার প্রক্রিয়া সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

অস্কারজয়ী ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সজোরের ‘নাজা’  বৃহস্পতিবার ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। মর্যাদাপূর্ণ  ‘গোল্ডেন লায়ন’ পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একমাত্র প্রামাণ্যচিত্র হিসেবে এটি উৎসবে জায়গা পেয়েছে। ভেনিসে এক সংবাদ সম্মেলনে আব্রাহাম বলেন, “আমরা ওই কর্মকর্তাদের কেবল বলেছিলাম, ‘দয়া করে আমাদের জানান আপনারা কী করেছিলেন। এই ব্যবস্থাগুলো কীভাবে কাজ করে? আমাদের জন্য এর একটি খসড়া বা চিত্র তুলে ধরুন। উত্তর দেওয়ার সময় সেনাদের কেউ কেউ কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি, আবার কেউ কেউ তা করেছিল। কেউ উদাসীন ছিল আবার কেউ গর্ব করেছে।”

‘নাজা’ নামটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত একটি সংক্ষিপ্ত শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে। সামরিক হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার সম্ভাবনাকে কৌশলে বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। ‘দ্য গার্ডিয়ান’এর প্রযোজনায় তৈরি ছবিটিতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সেনাদের বিস্তারিত সাক্ষ্য রয়েছে।

ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার ঝুঁকি থাকায় সাক্ষাৎকারগুলো পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তেল আবিবের বিভিন্ন ভবনের ছাদে রাতের বেলায় ধারণ করা হয়। তাদের পরিচয় আড়াল করতে চেহারা ও কণ্ঠস্বর ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে পরিবর্তন করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারদাতাদের দাবি অনুযায়ী, গাজায় হামাসের সম্ভাব্য নিম্নপদস্থ সদস্যদের শনাক্ত করতে এআই ভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হতো। এরপর রাতে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হতো, যদিও সেনারা জানত ওই বাড়িতে তাদের পরিবারের সদস্যরাও থাকতে পারেন।

চলচ্চিত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ফোন হ্যাক করত এবং হামলার ঠিক আগে হামাসের ওই সদস্যদের স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে কথোপকথনও গোপনে শুনত।

এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকা ধ্বংস, নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া বেসামরিক নাগরিকদের উপস্থিতি, পরিকল্পিতভাবে বাড়িঘরে আগুন দেওয়া এবং খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে বেসামরিক নাগরিক হত্যার মতো ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। ছবিতে এমন একটি এলাকার কথাও বলা হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ধারণা অনুযায়ী তখনও প্রায় ২৫ শতাংশ বাসিন্দা নিজেদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

 প্রামাণ্যচিত্রটির মাধ্যমে গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত নজরদারি ও হামলা ব্যবস্থার ভেতরের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা।