রাশমিকা মান্দানা ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অভিনয় দক্ষতা, ভাষা ও উচ্চারণ নিয়ে লাগাতার সমালোচনার শিকার হচ্ছেন বলে খোলাখুলি জানিয়েছেন। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গন এবং বলিউড দুই মাধ্যমেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য পাওয়া সত্ত্বেও নানা মহলের কটাক্ষের মুখে পড়তে হচ্ছে এই অভিনেত্রীকে।
জনপ্রিয়তার পাশাপাশি নেটিজেনদের একটি অংশের ট্রোলের বিপরীতে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
জনপ্রিয় আলাপচারিতা অনুষ্ঠান `কফি উইথ করণ`-এর নবম মৌসুমের একটি পর্বে স্বামী ও অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার সাথে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন রাশমিকা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে তাকে লক্ষ্য করে চলা নানামুখী সমালোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
রাশমিকা বলেন, চলচ্চিত্রে কাজ শুরুর পর থেকেই কোনো না কোনো কারণে তাকে সমালোচনা বা নিন্দার শিকার হতে হয়েছে। কখনো অভিনয়, কখনো ভাষা, আবার কখনো উচ্চারণ নিয়ে কথা উঠেছে। তবে তিনি নিজেকে নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখতে চাননি। শুধু একটি চলচ্চিত্রাঙ্গনে কাজ করার পরিবর্তে সব অঙ্গনে এবং একক ভাষার বাইরে সব ভাষার চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়াই তার মূল লক্ষ্য ছিল।
বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ তার অভিনয়ে বিশেষ তৃপ্তি এনে দিয়েছে। `এনিম্যাল` এবং `দ্য গার্লফ্রেন্ড`-এর মতো বৈচিত্র্যময় আঙ্গিকের কাজগুলোতে অংশ নিতে পারা অভিনেত্রী হিসেবে তার কাছে বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি। সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের এমন চরিত্রে কাজের প্রত্যাশাই তিনি প্রথম থেকে করে আসছিলেন।
তবে হিন্দি উচ্চারণে দক্ষিণ ভারতীয় টান থাকা নিয়ে দর্শকের একটি অংশের অসন্তোষ রয়েছে। `থামা`, `ককটেল ২` কিংবা `সিকান্দার` চলচ্চিত্রে তার সংলাপের উচ্চারণ নিয়ে বিতর্ক ওঠে।
উচ্চারণের এই বিতর্ককে স্বাভাবিক বাস্তব হিসেবেই দেখছেন তিনি।
রাশমিকা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দক্ষিণ ভারতীয় অঞ্চলের মানুষ হওয়ার কারণে তার কথায় সেই অঞ্চলের টান থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তিনি মনে করেন, এই সহজাত বৈশিষ্ট্যের বিপরীতে অন্য কিছু প্রত্যাশা করাই মূলত অযৌক্তিক।
এদিকে গত ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তার নতুন চলচ্চিত্র `রানাবালি`। সিনেমাটিতে তার সাথে রয়েছেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা। তবে মুক্তির পর বক্স অফিসে সিনেমাটি আশানুরূপ সাড়া ফেলতে পারেনি।


