...|...|...

বিশ্ব

হঠাৎ ইরান সীমান্তে ইসরায়েলের ডজনখানেক যুদ্ধবিমান, ঘটনা কী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৩৯
Shares
হঠাৎ ইরান সীমান্তে ইসরায়েলের ডজনখানেক যুদ্ধবিমান, ঘটনা কী

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি বিমান বাহিনী দেশটির সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০০ মাইল দূরে ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় বড় ধরনের শক্তির প্রদর্শন করেছে। কয়েক ডজন সামরিক বিমান নিয়ে এই মহড়া চালানো হয়েছে বলে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদক বারাক রাভিদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের কাছাকাছি এলাকায় এই লার্জ-স্কেল শো অব ফোর্স বা শক্তি প্রদর্শন করে।

সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মহড়াটি অস্বাভাবিক কিছু ছিল না এবং সামরিক কোনো হামলা ছাড়াই এটি মূলত একটি প্রশিক্ষণ মহড়া ও ‘শক্তি প্রদর্শন’-এর অংশ হিসেবে পরিচালনা করা হয়েছিল। এছাড়া অপারেশন শুরুর আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল। মার্কিন সূত্রের ধারণা, ইসরায়েল হয়তো চেয়েছিল যে ইরানি বাহিনী তাদের যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি চালাক, যা পরবর্তীতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর যৌক্তিক কারণ হিসেবে কাজ করত।

এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত ১০ অক্টোবরের উইকেন্ডে ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আইডিএফ-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতার মুখে সেই অভিযান স্থগিত করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইডিএফ ইতোমধ্যে পারমাণবিক স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বেসামরিক অবকাঠামো এবং ইরানি সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট সাইটগুলোকে লক্ষ্য করে কয়েক দিনব্যাপী একটি বোমা হামলার প্রস্তুতি শুরু করেছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যৌথভাবে চালানো ইসরায়েলি-মার্কিন আক্রমণের চেয়েও এই অভিযান আরও বিস্তৃত হওয়ার কথা ছিল।

হামলা স্থগিতের পেছনের কারণ ও ট্রাম্পের অবস্থান

অভিযানটি সামনে না এগোনোর প্রধান কারণ ছিল আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নতুন করে শুরু করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরোধিতা। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশঙ্কা করেছিলেন যে আরেকটি সামরিক উত্তেজনা অর্থনীতি ও জ্বালানির দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করা হলেও নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প—উভয়েই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি অব্যাহত রেখেছেন। আলোচনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এক সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা এখনও আলোচনার টেবিলে রয়েছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, হয় একটি চুক্তি হবে, নতুবা হামলা চালানো হবে। যুদ্ধ সমাপ্তির বৃহত্তর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়ে তেহরানের সাথে একটি চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।