...|...|...

বিশ্ব

ইরানে হামলার দিনক্ষণ ঠিক করল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৪১ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৪৪
Shares
ইরানে হামলার দিনক্ষণ ঠিক করল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, অস্ত্রাগার এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে এক তীব্র ও স্বল্পস্থায়ী সামরিক আক্রমণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই এই আক্রমণ চালানো হতে পারে বলে মার্কিন দৈনিক ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সাথে যুক্ত ব্যক্তি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় দেশের সামরিক বাহিনী এই সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে সামরিক মহড়া জোরদার করেছে এবং স্ট্রাইক ম্যানুভার বা আক্রমণ কৌশল অনুশীলনের জন্য ইরাকি আকাশসীমার ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমানের মহড়া চালিয়েছে।

সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং ড্রোন ও মিসাইল বা অস্ত্রাগারগুলো এই হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। কিছু কর্মকর্তার মতে, আরেকটি বড় ধরনের হামলা ইরানের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে এবং দীর্ঘ আট মাসের সংঘাতের পর তেহরানকে কূটনৈতিক ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে বিমান হামলার চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়; কারণ চলতি বছর বড় ধরনের সামরিক লড়াই পুনরায় শুরুর প্রস্তাব তিনি এর আগেও বেশ কয়েকবার আটকে দিয়েছিলেন। এমনকি চলতি মাসের শুরুর দিকেও উভয় সামরিক বাহিনী হামলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অপারেশনটি বাতিল করেন। এক সামরিক কমান্ডারের ভাষায়, এতে অপারেশনাল পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে একধরনের ‘প্রতিদিনের অনিশ্চয়তা ও ধাক্কা’ তৈরি হয়েছিল।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। মূলত আলোচনা চলাকালীন আক্রমণ না করার ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির সাথেই এটি মিলে যায়। এছাড়া তিনটি বিমানবাহী রণতরী, হাজার হাজার মেরিন সেনা, ফাইটার স্কোয়াড্রন এবং স্পেশাল অপারেশন ফোর্সেসসহ মার্কিন সামরিক বাহিনীর পুরো বহরটি আগামী নভেম্বরের শুরুর আগে পুরোপুরি একত্রিত হবে না। বিশেষ করে ওই সময়ে ইরানের ওপর রাতের অন্ধকার দীর্ঘ হওয়ায় তা কৌশলগত সুবিধা দেবে।

পারমাণবিক স্থাপনা ও এমওএবি বোমা নিয়ে বিতর্ক

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’, যা স্থানীয়ভাবে ‘কূহ কোলাং’ নামে পরিচিত একটি গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন যে, তিনি ওই সাইটটির বিরুদ্ধে ৯,৯৭৯ কেজি ওজনের জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বোমা মোতায়েন করার কথা বিবেচনা করছেন।

তবে অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে এই অস্ত্রটি মাটির ওপরে বিস্ফোরিত হয় এবং গভীরে থাকা গ্রানাইট বা পাথরের দুর্গ ভেদ করতে ব্যর্থ হবে। এছাড়া এটি বহনের জন্য যে ধীরগতির এম-১৩০ পরিবহন বিমান প্রয়োজন, তা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষার মুখে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন আলোচকরা তেহরানের পারমাণবিক অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক চলাচলের বিষয়ে ছাড় আদায়ের জন্য নতুন সংঘাতের হুমকিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে, কিছু পরিকল্পনাবিদের বিশ্বাস যে একটি বিমান অভিযান ইরানের অবস্থানকে পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে। তবে এর আগে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যকার বিমান হামলায় মিসাইল ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুদ কমে গিয়েছিল, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল এবং তা কোনো কূটনৈতিক ছাড় আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

ইসরায়েলের রাজনীতি ও তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলের নির্বাচন সেখানকার রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনে হেরে গেলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন কেয়ারটেকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তীব্র সংকটের মুখে পড়বেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন যুদ্ধের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের একটি জরুরি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনে বাধ্য করতে পারেন।

এদিকে, আঞ্চলিক ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়ে গত বুধবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সৌদি আরবে চলমান হুথি হামলার মুখে দেশটির মার্কিন মিশনগুলোর জরুরি নয় এমন কর্মী ও পরিবারগুলোকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এমন কোনো সামরিক পরিকল্পনা আছে কি না সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করলেও ট্রাম্প যে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে সব বিকল্প খোলা রেখেছেন, তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অধীনস্থ ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, কোনো যুদ্ধই দ্রুত বা সীমিত থাকবে না। তেহরান এর প্রতিশোধ হিসেবে আঞ্চলিক ডেটা সেন্টার, সাবমেরিন বা সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল এবং সৌদি আরবের তেল শোধনাগার বিশেষ করে আরামকোর স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইরানের শীর্ষ এক আলোচক জেনারেল মোহাম্মদ বাকের কালিবফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী বলেছেন যে, ইরানের পাল্টা আঘাত হবে আরও উগ্র, সৃজনশীল এবং ভিন্ন মাত্রার।