...|...|...

বিশ্ব

ভারতের মহারাষ্ট্র

‘আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু মা আর ছোট ভাইয়ের কী হবে’

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:৩১
Shares
‘আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু মা আর ছোট ভাইয়ের কী হবে’

বিশ্বরাজসিংহ ময়ূরসিংহ গোহিল। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মহারাষ্ট্রের ১ হাজার ৭০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত কনকানকাদা পাহাড় থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে বিশ্বরাজসিংহ ময়ূরসিংহ গোহিল নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। গুজরাটের ভাবনগরের বাসিন্দা এবং ডাক বিভাগের এই কর্মী মৃত্যুর আগে ১৩ মিনিটের একটি ভিডিও রেকর্ড করেন। যেখানে বৈবাহিক সংকট, আইনি হয়রানি এবং সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ তুলে গেছেন তিনি।

নিহত বিশ্বরাজসিংহের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি তার বিয়ে হয়েছিল। তবে সেই দাম্পত্য জীবন স্থায়ী হয় মাত্র আট মাস। এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রী যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। গত ৯ অক্টোবর ওই মামলায় আদালতে হাজিরাও দিয়েছিলেন বিশ্বরাজসিংহ।

মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা সেই মর্মস্পর্শী ভিডিওতে নিজের চরম হতাশার কথা ব্যক্ত করে ওই যুবক বলেন, আজ আমি খাদে লাফিয়ে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি। আপনারা হয়তো ভাবছেন কী এমন ঘটল? যখন জীবনে আর কোনো আশাই অবশিষ্ট থাকে না... এবং যখন এই পরিস্থিতি কোনো ভালো সম্পর্ক থেকে তৈরি হয়, তখন তা আপনার আত্মাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। আমরা বলি বিয়ে জন্মজন্মান্তরের পবিত্র বন্ধন, কিন্তু বর্তমান যুগে মতবিরোধ তৈরি হলে মানুষ তো বিচ্ছেদ ঘটিয়েই নিতে পারে।

সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিশ্বরাজসিংহ জানান, তাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ মতবিরোধগুলোকেও স্ত্রী ও তার পরিবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তিনি বলেন, তখন আমার ধারণাও ছিল না যে এমন এক ঝড় আমার জীবনে অপেক্ষা করছে। অথচ আমাদের পরিবারে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে আমি, আমার মা এবং আমার ভাই আমার স্ত্রীকে মারধর করেছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। পুলিশ এফআইআর দায়ের করার সময় কোনো প্রমাণ বা মেডিকেল রিপোর্টও তলব করেনি।

মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক চাপের কারণে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিশ্বরাজসিংহের অভিযোগ, তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন জোরপূর্বক তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, তারা দাবি করেন তাদের স্বর্ণালংকার আমাদের কাছে রয়েছে। অথচ সত্যি কথা হলো, যখন তার বাবা-মা তাকে জোর করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, সে নিজে বলেছিল যে সে যেতে চায় না। আমাদের সমাজের মানুষেরা এর সাক্ষী। সে আমাদের দেওয়া সোনা পরেই চলে গেছে, অথচ যখন আমরা আমাদের জিনিসপত্র ফেরত চাই, তখন এর কোনো বিচার বা তাদের ওপর কোনো চাপ থাকে না। সব চাপ শুধু ছেলের পরিবারের ওপরই আসে।

শ্বশুরবাড়ির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশ্বরাজসিংহ বলেন, আমার শ্বশুর আমাকে বলতেন তিনি আমার বাবার মতো। কোনো বাবা কি তার সন্তানকে নিঃস্ব করেন, তার মানসিক অবস্থা ধ্বংস করেন এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন? একজন বাবা তো ভুলত্রুটি ক্ষমা করে আরেকটি সুযোগ দেন। আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু আমার মা এবং আমার ১৬ বছরের ছোট ভাইয়ের কী হবে, যাকে মিথ্যাভাবে যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় জড়ানো হয়েছে?