...|...|...

বিশ্ব

চন্দ্রাভিযানে ২১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করল তুরস্ক

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:২১
Shares
চন্দ্রাভিযানে ২১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করল তুরস্ক

ছবি: সংগৃহীত

চাঁদের বুকে অভিযান ও নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষে আগামী তিন বছরে বিমান ও মহাকাশ শিল্প খাতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন তুর্কি লিরা (২১০ কোটি বা ২.০১ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আঙ্কারা। তুরস্কের ২০২৩-এর কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট প্রাক্কলন ও বাজেট যৌক্তিকীকরণ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তুর্কি বার্তা সংস্থা ‘আনাদোলু এজেন্সি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটির মহাকাশ ও বিমান কর্মসূচির বাজেট ছিল ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। তবে খাতের বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করতে আগামী ২০২৭ সালে এই বরাদ্দ ১৮১.৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৪৯ কোটি ৫৭ লাখ ডলারে উন্নীত করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৮ সালে এই তহবিল বৃদ্ধি পেয়ে ৬১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার এবং ২০২৯ সালে ৭৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমান চলাচল খাতের অবকাঠামো ও যাত্রীবৃদ্ধির লক্ষ্য খাতটির বরাদ্দ থেকে প্রায় ৩৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার ব্যয় করা হবে বিমান পরিবহন সুবিধাগুলোর নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিমান চলাচল খাতের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ ২০২৮ সালে ৫৮ কোটি ১১ লাখ এবং ২০২৯ সালে ৫৯ কোটি ৬২ লাখ ডলারে পৌঁছাবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

আঙ্কারা আশা করছে, আগামী বছর অভ্যন্তরীণ ও সরাসরি ট্রানজিট যাত্রাসহ মোট ২৭ কোটি ২০ লাখ বিমানযাত্রী স্বাগত জানানো সম্ভব হবে, যা ২০২৮ সালে বেড়ে ২৮ কোটি ২০ লাখ এবং ২০২৯ সালে ২৯ কোটি ১০ লাখজনে উন্নীত হবে।

জাতীয় মহাকাশ কর্মসূচি ও চন্দ্রাভিযান

মহাকাশ খাতের বাজেট তুরস্কের জাতীয় মহাকাশ কর্মসূচি, সংশ্লিষ্ট গবেষণা, পরীক্ষামূলক অবকাঠামো এবং উচ্চ মূল্যের স্বনির্ভর প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণে সহায়তা করবে। এর আগে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ ‘তুর্কস্যাট ৬এ’ এবং সাব-মিটার রেজুলেশনের ভূ-পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ ‘ইমেস’-র সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বিগত বছরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে তুরস্ক।

এছাড়া ২০২৪ সালে তুরস্কের প্রথম মানববাহী বিজ্ঞান মিশনে অংশ নেন মহাকাশচারী আলপের গেজেরাভচি ও তুভা সিহাঙ্গির আতাসেভার, যারা মহাশূন্যে বিভিন্ন সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন। আগামী বছর তুরস্কের প্রথম গভীর মহাকাশ বা চন্দ্রাভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ৫-৯ অক্টোবর দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর আনতালিয়া ৭৩তম আন্তর্জাতিক মহাকাশচারী কংগ্রেস-এর আয়োজন করেছিল।

৮০ শতাংশেরও বেশি স্থানীয় উপাদানে তৈরি এবং হাইব্রিড প্রপালশন সিস্টেমের সমন্বয়ে গঠিত নিজস্ব মহাকাশযান দিয়েই এই চন্দ্রাভিযান পরিচালিত হবে। ইতোমধ্যে মহাকাশযানটির সংযোজন কাজ শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে সেটির অতিরিক্ত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি, মহাকাশে তুরস্কের স্বাধীন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সোমালিয়ায় একটি স্পেসপোর্ট বা মহাকাশ বন্দর প্রতিষ্ঠার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তুর্কি মহাকাশ সংস্থা।