সৌদি আরবে হুথিদের ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলায় রিয়াদকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে তুরস্ক। একই সঙ্গে সংঘাত কমাতে তেহরানের সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে আঙ্কারা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ অঞ্চলের উত্তেজনা দ্রুত প্রশমনে ইরানের আগ্রহ কম থাকতে পারে এবং হুথিদের ওপর তেহরানের প্রভাব নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
সৌদি ভূখণ্ডে হুথি হামলা ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় এই তুর্কি তৎপরতা শুরু হয়। গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি হামলায় ১৩ জন নিহত ও তিন শতাধিক আহত হন। বিগত এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশটিতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত সপ্তাহে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের তাগিদ দেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। এর পর পরই আঙ্কারার কূটনীতি গতি পায়। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে ফোনে কথা বলেন। একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাথে আলোচনা করেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এই হামলার পর গত আগস্টে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত 'মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি' নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটিতে আক্রমণ হলে তা সবার ওপর হামলা বলে গণ্য হবে। সংঘাত তীব্র হওয়ায় গত ৫ অক্টোবর তিন দেশ রিয়াদে দ্রুত সামরিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়। তবে বাহিনী পাঠাতে তুর্কি পার্লামেন্টের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, পার্লামেন্টের অনুমোদন পেলেও তুরস্ক সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানে যাবে না। আঙ্কারা মূলত সামরিক প্রযুক্তি ও পরামর্শমূলক সহায়তা দেবে, যেন তারা নিজেরা সরাসরি হামলার মুখে না পড়ে।
তুরস্কের মূল লক্ষ্য হলো এই সংঘাত থেকে নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে রাখা। কারণ গালফ অঞ্চলে অবস্থানরত বিদেশি বাহিনী ইতোমধ্যেই হতাহতের শিকার হয়েছে। গত মার্চে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানি হামলায় বিভিন্ন ঘাঁটিতে নিযুক্ত প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো অ্যালেক্স ভাটানকা মনে করেন, সরাসরি সামরিক যুদ্ধে না জড়াতে ইরানও তুরস্ককে পাশে রাখতে চায়। তবে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনে তেহরানের তাগিদ কম হতে পারে। কারণ হুথিরা সৌদি আরবকে ব্যাকফুটে রাখলে তা তেহরানের দরকষাকষির অবস্থানকেই শক্তিশালী করবে।


