...|...|...

বিশ্ব

৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা মোহাম্মদ সাদিক

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:২০
Shares
৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা মোহাম্মদ সাদিক

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশে চার স্ত্রী এবং ৫৮ সন্তানের এক ৫৭ বছর বয়সী আফগান পিতা চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। অভাবের তাড়নায় তার অনেক সন্তানকেই প্রায়ই না খেয়ে ঘুমাতে যেতে হয়। বিপুল এই পরিবারের ভরণপোষণ ও খাবার জোগাতে গিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত যে কঠিন লড়াই করতে হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আফগান সংবাদমাধ্যম ‘খামা প্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশাল এই পরিবারের দেখাশোনা করার চ্যালেঞ্জ ও নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিবিসিকে বিস্তারিত জানিয়েছেন মোহাম্মদ সাদিক নামের ওই ব্যক্তি। তিনি জানান, তার পক্ষে সব সন্তানের নাম মনে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের সাথে খাবার খাওয়ার সময় অনেক সময় তিনি তাদের গুনে দেখেন, কিন্তু কোনো সন্তান অন্যত্র থাকায় একজনকে কম পান। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সাদিক ও তার স্ত্রীদের ১৪ জন সন্তান মারা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা

একটি কার ডিলারশিপে বা গাড়ির শোরুমে কাজ করেন সাদিক। তিনি জানান, একটি গাড়ি বিক্রি হলে তিনি প্রায় ১ হাজার আফগানি পারিশ্রমিক পান। এই সামান্য আয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না বলে সংসারের খরচে হাত লাগাতে হয় তার কিছু সন্তানকেও। এমনকি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য ছোট শিশুরা কাগজ ও প্লাস্টিক কুড়িয়ে আনে।

পরিবারটিতে সাধারণত দিনে দুই বেলা খাবার—সকালের নাশতা ও রাতের খাবার রান্না করা হয়। পরিবারের দুই জন নারী রান্নার দায়িত্বে থাকেন। শীতের দিনে পরিবারের সবাই মিলে ঘরের ভেতরে একসাথে খাবার খেলেও গরমের দিনে তারা উঠানে জড়ো হন। ঘুমের ব্যবস্থাও বেশ কষ্টকর; গাদাগাদি করে থাকতে হয়। কখনও কখনও ছয়-সাতজন মিলে একটিমাত্র পাতলা কম্বল গায়ে জড়াতে হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তাদের বাড়িটির ঘরগুলোতে দরজা ও জানালার মতো প্রথাগত ব্যবস্থা নেই; দরজার পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় পাতলা পর্দা। গোসলের জন্য ব্যবহৃত স্থানটিতেই কাপড় ও থালাবাসন ধোয়া হয় এবং মাঝে মাঝে সেটিকে শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। এতকিছুর পরও সাদিক তার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন, যদিও পড়াশোনার খরচ বহন করা তার জন্য সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিয়ে ও বড় পরিবারের পেছনের কারণ

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীর সংখ্যা বাড়াতেই তিনি এত বড় পরিবার গঠন করেছেন বলে জানান সাদিক। এত বেশি সন্তান থাকার কারণে নানা মজার বা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখেও পড়তে হয় তাকে। এক স্মৃতির রোমন্থন করে তিনি জানান, একবার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে এক ধর্মগুরুর কাছে তিনি ভুলক্রমে অন্য এক মেয়ের নাম বলে ফেলেছিলেন। প্রতিটি সন্তানের নাম মনে রাখতে না পারায় তিনি প্রায়ই তাদের ‘আমার ছেলে’ বা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাদিকের চারজন স্ত্রী যখন তাকে বিয়ে করেন, তখন তাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। প্রথম স্ত্রীকে যখন তিনি বিয়ে করেন, তখন তার নিজের বয়স ছিল ২০ বছর। প্রতিটি বিয়ের আগে কনের পণ বা দেনমোহরের অর্থ জমাতে তাকে বেশ সময় ও কষ্ট করতে হয়েছিল।

এই ঘটনাটি বাল্যবিয়ে এবং অল্প বয়সে ও বারবার গর্ভধারণের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কৈশোরে যেসব মেয়ে বিয়ে করে এবং গর্ভধারণ করে, তাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। এছাড়া বারবার গর্ভধারণ মায়েদের স্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ পাওয়া এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

লেখাপড়া না জানা মোহাম্মদ সাদিক তার পরিবারকে সহায়তা করার জন্য সরকার, বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তার প্রধান দুটি আশার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তিনি চান তার সন্তানরা যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয় এবং তাদের যেন কখনও খাদ্যাভাব না থাকে।