পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি হয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা বাখতার নিউজ এজেন্সি। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তালেবান সরকারের নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে বাখতার জানিয়েছে, পাকতিয়া প্রদেশে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের কয়েক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চলে। সংঘর্ষের বিষয়ে পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
তবে পাকিস্তানের সরকারি সংবাদমাধ্যম রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের আপার কুররাম এলাকায় তালেবান সরকারের বাহিনীর ‘বিনা উসকানিতে চালানো গুলির কার্যকর জবাব’ দিয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, পাকিস্তানি বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে তালেবান বাহিনীর কয়েকটি ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে এবং তাদের কর্মকর্তারা সেখান থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে, তালেবান সরকারের নিরাপত্তা সূত্র বিবিসি পশতুকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি সংঘর্ষের একটি ভিডিওও পাঠিয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভিডিওতে তালেবান বাহিনীকে পাকিস্তানি বাহিনীর লক্ষ্য করে রকেট বোমা ও কামানের গোলা ছুড়তে দেখা যায়।
এর আগে, গত ১ অক্টোবর পাকিস্তান সরকার দাবি করেছিল, ‘বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের’ ভিত্তিতে আফগানিস্তানের দুটি স্থানে কথিত জঙ্গি আস্তানায় হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী। ওই হামলায় অন্তত ২২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করে ইসলামাবাদ।
তবে পাকিস্তানের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে তালেবান কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় আফগানিস্তানের কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে বেসামরিক নাগরিকদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। তাঁদের দাবি, ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
সীমান্তে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে দুই দেশের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তান সরকার নতুন সংঘর্ষের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না দেওয়ায় হতাহতের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



