ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মধ্যেই দেশটিতে প্রায় ৮০ কোটি ইউরো (৯৩ কোটি মার্কিন ডলার) মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম রফতানির অনুমোদন দিয়েছে জার্মানি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জার্মান সংবাদ ম্যাগাজিন ‘ডার স্পিগেল’-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
বিরোধী দল ‘দ্য লেফট পার্টি’র একটি সংসদীয় প্রশ্নের জবাবে দেশটির অর্থনীতি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ইস্যু করা রফতানি লাইসেন্সের এই পরিমাণ গত ২০২৫ সাল জুড়ে ইসরায়েলকে অনুমোদিত মোট মূল্যের চার গুণেরও বেশি।
চ্যান্সেলর ফ্রিডরিচ মার্জের সরকার গত ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর ইসরায়েলে অস্ত্র রফতানির ওপর আরোপিত আংশিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরই রফতানির এই উল্লম্ফন ঘটে।
এর আগে, গাজায় সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তের পর গত বছরের ৮ আগস্ট চ্যান্সেলর মার্জ গাজায় ব্যবহার করা যেতে পারে এমন অস্ত্রের রফতানি স্থগিত করেছিলেন। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা মাত্র সাড়ে তিন মাস কার্যকর ছিল।
অনুমোদনের এই তীব্র বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বড় আকারের প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলো। দ্বিতীয় প্রান্তিকে অনুমোদিত ৭৩ কোটি ৫৮ লাখ ইউরো মূল্যের রফতানি পারমিটের প্রায় ৬৭ শতাংশই একটি নৌ প্রকল্পের সাথে যুক্ত।
প্রতিবেদনে জার্মান শিপবিল্ডার ‘থিসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস’ কর্তৃক নির্মিত বায়ু-স্বতন্ত্র প্রপালশন সাবমেরিন ‘আইএনএস ড্রাকন’-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্প্রতি জার্মানির কিল শহরের শিপইয়ার্ড ছেড়ে ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে।
এছাড়াও লাইসেন্সের আরও ২১ শতাংশ জুড়ে রয়েছে জার্মানি ও ইসরায়েলি কোম্পানির যৌথ প্রকল্পগুলো, যা জার্মান সশস্ত্র বাহিনী বা বুন্দেসওয়্যারের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করবে বলে বিবেচনা করা হয়েছে। বাকি অনুমোদনগুলোর মধ্যে রয়েছে ছোট অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক এবং মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩,৪৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৪,৫৪০ জন আহত হয়েছেন। যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু। পাশাপাশি গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
দ্য লেফট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক মুখপাত্র লেয়া রেইসনার জার্মান সরকারের বিরুদ্ধে ‘সীমাহীন দ্বিচারিতা’র অভিযোগ এনেছেন। ইসরায়েলি কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীরের পক্ষ থেকে গাজার বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে দেওয়া বিবৃতির নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দেশটির জন্য সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখায় তিনি বার্লিনের সমালোচনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্য লেফট পার্টি ইসরায়েলে জার্মান অস্ত্র রফতানির ওপর অবিলম্বে ও সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, জার্মানি ২০২৩ সালে ইসরায়েলকে ৩২৭ মিলিয়ন ইউরো, ২০২৪ সালে ১৬১.১ মিলিয়ন ইউরো এবং ২০২৫ সালে ২৬০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রফতানির অনুমোদন দিয়েছিল।
এর আগে, ২০২৩ সালে দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি আগের বছরের তুলনায় দশগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
নাৎসি অতীত এবং হলোকাস্টের কারণে জার্মানির ঐতিহাসিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করে দেশটির নেতারা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে সমর্থন করে আসলেও বর্তমান এই সিদ্ধান্ত নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।


