...|...|...

বিশ্ব

অস্ট্রেলিয়ানরা সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম বন্ধ করার সুযোগ পাবেন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:০৮
Shares
অস্ট্রেলিয়ানরা সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম বন্ধ করার সুযোগ পাবেন

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম বন্ধ করার সুযোগ পেতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যবহারকারীরা। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহে একটি খসড়া আইন প্রস্তাব করার কথা জানিয়েছে দেশটির সরকার।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেন, প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল ডিউটি অব কেয়ার’ আইনের মাধ্যমে এমন একটি প্রযুক্তি খাতের জন্য মৌলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে, যারা এতদিন এসব নিয়ম মানার বাধ্যবাধকতার বাইরে ছিল।

মেটা, গুগল ও টিকটকের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহারকারীদের অ্যালগরিদম বন্ধ করার সুযোগ না দিলে তাদের ‘উল্লেখযোগ্য’ শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

সোমবার এবিসিকে ওয়েলস বলেন, সরকার চায় অস্ট্রেলিয়ানরা তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিডে কী ধরনের কনটেন্ট দেখবেন, সে বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ ও পছন্দের সুযোগ পান।

তিনি বলেন, অনেক ব্যবহারকারী অ্যালগরিদম পছন্দ করেন, কারণ এর মাধ্যমে তারা বিনোদন পান কিংবা নিজেদের এলাকার স্থানীয় ব্যবসা সম্পর্কে জানতে পারেন। তবে যারা অ্যালগরিদম ব্যবহার করতে চান না, তাদের সেই সুযোগও থাকা উচিত।

ওয়েলস বলেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ‘সুরক্ষিত প্রজাতি’ নয়। গ্রাহকদের জন্য মৌলিক নিরাপত্তার মান নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।

তবে প্রস্তাবটি নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। লিবারেল পার্টির নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর বলেছেন, তিনি এ উদ্যোগ নিয়ে ‘অত্যন্ত সন্দিহান’। তাঁর আশঙ্কা, এর মাধ্যমে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেন্সরশিপ চালুর সুযোগ পেতে পারে।

টেলর বলেন, এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। তাঁর মতে, নতুন কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সরকারের উচিত বিদ্যমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করা।

তবে ওয়েলস সেন্সরশিপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রস্তাবটির লক্ষ্য কোনো কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা নয়; বরং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মের ঝুঁকি শনাক্ত ও তা কমাতে বাধ্য করা।

প্রস্তাবিত আইনটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেবে বলে জানিয়েছেন ওয়েলস। অর্থাৎ আইন প্রণয়নের আগে অ্যালগরিদমে ব্যবহারকারীদের অংশগ্রহণের ধরনসহ বেশ কিছু বিষয় চূড়ান্ত করার বাকি রয়েছে।

এদিকে গত বছর ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চালু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে এখন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করায় কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়নি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা চালুর আগে যাদের বয়স ১৬ বছরের কম ছিল, তাদের বড় একটি অংশ এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে।

অ্যালগরিদমিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফিড নিয়ে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে দেওয়া এক বক্তৃতায় শ্যানেল কন্টোস সরকারকে অ্যালগরিদমিক ফিডের ক্ষেত্রে ‘অপ্ট-ইন’ ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান।

কন্টোসের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম অস্ট্রেলিয়ায় যৌন সহিংসতার বিস্তার বাড়াতে ভূমিকা রাখছে এবং তরুণদের নারীবিদ্বেষী ‘ম্যানোস্ফিয়ার’ কনটেন্টের সংস্পর্শে আনছে।