গদখালীর মাঠে ফুলেদের ‘রংকেলি’
মাঠজুড়ে যেন প্রকৃতির হোলি খেলা। সবুজ গালিচার উপর সুদক্ষ হাতে সুবিন্যাস্ত ছড়ানো আবির। কোথাও লাল, কোথাও হলুদ কোথাও সাদা বা আরও নানান রং। চোখ খুললেই মনে জাগে উৎসবের আমেজ। যেন প্রকৃতিও জেনে গেছে ডিসেম্বর মানেই বাংলাদেশের বিজয়ের মাস।
আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস। এ উপলক্ষে উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে যশোরের ফুলের বাজার। ফুলের রাজধানীখ্যাত গদখালীতে জমে উঠেছে ফুল বেচাকেনা। দম ফেলার সময় নেই ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের।
শীতকালকে ফুলের ভরা মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এই মৌসুমের শুরুতেই বিজয় দিবস, ইংরেজি নববর্ষ, বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবস থাকায় ফুলচাষিরা আগেভাগেই পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে কিছুটা ক্ষতি হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সামগ্রিকভাবে ফুলের উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিবহন সংকটের আশঙ্কায় কিছু চাষি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তারা বাজার স্থিতিশীল রাখার দাবি জানিয়েছেন।
ফুলচাষি আকতার হোসেন বলেন, ‘এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে প্রথম দফার কিছু ফুল নষ্ট হয়েছে। পরে দ্বিতীয় দফায় আবার চাষ করতে হয়েছে। এতে খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে।’
গদখালীর পাইকারি ফুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই চাষিরা রঙিন ফুলের ঝুড়ি নিয়ে বাজারে আসছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে বাজার এলাকা।
ব্যবসায়ীদের আশা, ডিসেম্বরের এই বিশেষ দিন এবং ইংরেজি নববর্ষ বরণ ঘিরে গদখালীতে এবার শত কোটি টাকারও বেশি ফুল বিক্রি হবে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর রজনীগন্ধা প্রতিটি স্টিক ৭ থেকে ৮ টাকা, গাঁদা প্রতি হাজার ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং গোলাপ প্রতিটি ৪ থেকে ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গদখালী ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতারা জানান, এই অঞ্চলের বার্ষিক ফুলের বাজার প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা। দেশের মোট ফুলের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ হয় এই গদখালী এলাকা থেকে। বিশেষ দিবসগুলোতে ফুলের দাম আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ী সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর ফুলের উৎপাদন ভালো হয়েছে এবং দামও মোটামুটি সন্তোষজনক। তবে নির্বাচন সামনে থাকায় চাষিরা কিছুটা চিন্তিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে গত বছরের তুলনায় বিক্রি আরও বাড়বে।’
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গদখালী অঞ্চলে প্রায় ৬৩৮ হেক্টর জমিতে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জারবেরা, গ্ল্যাডিওলাস ও চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা জাতের ফুলের চাষ হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর যশোরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আবুল হাসান জানান, গত বছর ৬৩৭ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছিল। এ বছর তা বেড়ে ৬৩৮ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান, কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান সেজন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১২২ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।