জকসু নির্বাচন বাম জোটের বৈচিত্র্যময় প্যানেল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো আগামী ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা। বিভিন্ন সংগঠন ঘোষণা করেছে নিজেদের প্যানেল। এরই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ৯টি সংগঠনের সমন্বয়ে বাম শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করেছেন জোটবদ্ধ ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেল।
গত ১৭ নভেম্বর ঘোষিত মওলানা ভাসানী ব্রিগেড প্যানেল অনুযায়ী, সহসভাপতি (ভিপি) পদে লড়বেন গৌরব ভৌমিক। তিনি সংগীত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং জবির উদীচীর সভাপতি। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে লড়বেন ইভান তাহসিব। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি। সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শামসুল আলম মারুফ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক।
বৈচিত্র্যময় জোটের ২১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ এ প্যানেলে শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ছাড়াও রয়েছে বাম মতাদর্শ সমর্থিত বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী এবং ছাত্র ইউনিয়ন। এ ছাড়া রয়েছে উদীচী, জবি সংস্কৃতি কেন্দ্র, রাষ্ট্রচিন্তা, চিন্তক, ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশন ও জবি রঙ্গভূমির মতো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। এ ছাড়া সম্পাদকীয়, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে খিজির আল সিফাত, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে জয় ভুঁইয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে রিয়াদ হোসেন আহ্বায়ক, স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক পদে নু মং প্রু মারমা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে সালমান সাদ, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মুগ্ধ আনন, পরিবহন সম্পাদক মোহাম্মদ মাহীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সদস্যপদে তাজওয়ার ইসলাম, রৌদ মুক্তাদির, শাহরিয়ার আদিব এবং পল্লব কুমার।
৭ পদে নারী প্রার্থী
ঘোষিত প্যানেল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ সদস্যের প্যানেলের সাতটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন নারী শিক্ষার্থীরা– যা মোট প্রার্থীর ৩৩.৩৩ শতাংশ। ব্রিগেড প্যানেলের আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক আফিকা লেবিন মৌমি, আন্তর্জাতিক সম্পাদক জোয়ান অফ আর্ক, সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক আমরিন জাহান অপি, পাঠাগার ও সেমিনারবিষয়ক সম্পাদক মুবাশিরা। এ ছাড়া সাতটি সদস্যপদের তিনটিতে নারী প্রার্থী। তারা হলেন– সুমাইয়া আবেদীন ঋতিকা, সাগ্নিকা চক্রবর্তী, রিদি। প্যানেল সূত্রে জানা গেছে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই প্যানেলে রয়েছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর নু মং প্রু মারমা। তিন হিন্দু ধর্মাবলম্বী; গৌরব ভৌমিক, সাগ্নিকা চক্রবর্তী এবং পল্লব কুমার।
প্যানেলে সর্বোচ্চ সংখ্যক নারী হওয়ায় অনেকের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই প্যানেলে নারী প্রার্থীরা বলছেন, তাদের কাজের মাধ্যমে সেই নেতিবাচক মনোভাব দূর হবে। সমাজ, কর্মক্ষেত্র, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব জায়গায় নারীদের অস্তিত্ব জানান দেওয়া তাদের লক্ষ্য।
এ বিষয়ে ব্রিগেড প্যানেলের সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী আমরিন জাহান অপি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন মেয়েরা বিভিন্ন সংগঠন, একাডেমিক কার্যক্রম ও সামাজিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি, সেই নেতৃত্বকে স্বীকৃতি ও পরিপূর্ণ সুযোগ দেওয়া জরুরি। সেই ভাবনা থেকে বেশি সংখ্যক নারী প্রার্থী অন্তর্ভুক্ত করেছি। এতে শুধু প্রতিনিধিত্ব নয়, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে নারী নেতৃত্বই হলো পরিবর্তনের কার্যকর শক্তি।
প্যানেলের নেতারা বলেন, এই প্রজন্মের কাছে মওলানা ভাসানীর অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মেহনতি মানুষের জন্য সংগ্রামের ইতিহাসকে তুলে ধরবেন। এ লক্ষ্যে প্যানেলের নাম ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’। যারা এই প্যানেলে আছেন, সবাই ক্যাম্পাসে লড়াইয়ের শক্তি এবং সবাই গণতান্ত্রিক ভাবধারার অধিকারী। ফলে এমন বৈচিত্র্যময় প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান প্রার্থীরা। একই সঙ্গে নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেশি নারী শিক্ষার্থী নেওয়া হয়েছে এই প্যানেলে।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী ইভান তাহসিব বলেন, আমরা নারী-পুরুষের সমতায় বিশ্বাসী। আমরা মনে করি, নারীরা রাজনীতিতে যত সক্রিয় হবে ততই তারা আওয়াজ তুলতে পারবে। শিক্ষার্থীরা আমাদের এই প্যানেলকে নিয়ে খুবই পজেটিভ এবং বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা আমাদের স্বাগত জানিয়েছেন। নিজেদের সংকট ছাপিয়ে আমরা জকসু থেকে জাতীয় নেতৃত্ব তৈরিতে কাজ করব।
সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী গৌরব ভৌমিক বলেন, এই প্যানেলে ৯টি ভিন্ন সংগঠন ও ধারার মানুষ একত্র হয়েছেন মানবিক ও গণতান্ত্রিক আদর্শে। বাম মানেই নাস্তিকতা বা কোনো ধর্মবিরোধী অবস্থান নয়; বরং নিজের ধর্ম পালন করেও সাম্য, মানবতা ও সমঅধিকারের পক্ষে দাঁড়ানো যায়। আমরা মনে করি, নারী-পুরুষ, ধর্ম-সম্প্রদায় বা অর্থনৈতিক অবস্থান– সবকিছুর ওপরে আমাদের পরিচয় জবি শিক্ষার্থী।