সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় করলার ব্যাপক আবাদ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় করলার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। নদী পাড়ের শত শত বিঘা জমি ও ঢালুতে দু'জাতের করলা
আবাদ করেছেন কৃষকেরা। করলার জাত দুটি হল আকারে
ছোটো উচ্ছে ও মল্লিকা। সরেজমিনে দেখা গেছে,
এবার আবাদকারি কৃষকের সংখ্যা ফি বছর বাড়ছে। কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উৎপাদন খরচ
তুলনামূলক বেশি হলেও শেষ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখেন কৃষকেরা। নিজ নিজ জমির নদীর ঢালুতে এ ফসলের আবাদ হওয়ায় জমি
আর পতিত থাকছে না । বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখানকার করলা ফসল পাইকারি কিনে নিয়ে
যান। করলা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে এলাকায় করলা কেনাবেচার আড়ত গড়ে উঠেছে। এছাড়া বহু ব্যবসায়ী সরাসরি জমিতে গিয়ে পাইকারি দরে
করলা কেনেন।
উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে কোমলা বানিয়াধান নদী। নদীটির দুপাড়ের সুজা , কৈবর্তগাতী , গোনাইগাতি ,
বংকিরাট আবাদী মাঠ এলাকায় বছর দশেক ধরে শত
শত বিঘা জমিতে কৃষকেরা করলা ফসলের আবাদ করে
আসছেন। কৃষকেরা জানান, অল্প দিনের মধ্যেই জমি
করলা গাছে ভরে উঠবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কুমার ব্রীজের পুর্বদিকের গোনাইগাতি মোড় এলাকা
থেকে পশ্চিমের বংকিরাট এলাকা প্রায় আড়াই কিলোমিটার করলার আবাদ করা হয়েছে।
মোহনপুর ইউনিয়নের কৈবর্তগাতী গ্রামের কৃষক ফরিদ হোসেন এবার গুটি উচ্ছে
ও মল্লিকা জাতের মিলে প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে করলার আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, করলার আবাদে খরচ কিছুটা বেশি হলেও এটি
বেশ লাভজনক। তবে এজন্য ভালো মানের বীজ ব্যবহার
করতে হবে এবং নিয়মমাফিক পরিচর্যা করতে হবে। গত বছর দুবিঘা
জমিতে করলা আবাদ করে সব খরচ বাদে প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ করেছিলেন বলে জানান ফরিদ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সূবর্ণা ইয়াসমিন সূমী বলেন, মোহনপুর ইউনিয়নের
কৈবর্তগাতী , বংকিরাট , গোনাইগাতি এলাকায় নদীটির দুপাড়ের জমিতে ও নদীর ঢালুতে জমিতে
করলার আবাদে কৃষকেরা বেশ কয়েক বছর ধরে লাভবান হচ্ছেন এবং জমির উপযুক্ত ব্যবহার করছেন।