জয়পুরহাটে ১৭ ঘণ্টায় একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু
জয়পুরহাট সদর উপজেলায় প্রায় ১৭ ঘণ্টার মধ্যে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের বড় মাঝিপাড়া গ্রামের সালেহা বেগম, তার মেয়ে বিলকিস বেগম ও নাতি তুহিন হোসাইন।
নিহতদের স্বজনেরা জানিয়েছেন, জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তুহিন। রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাতে ৮টার দিকে তিনি সেখানে মারা যান তিনি। সোমবার সকালে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এরপর ওইদিন দুপুরের দিকে হাসপাতালে মারা যান তার দাদি সালেহা বেগম। তার মৃত্যুর মাত্র ৩৫ মিনিট পর একই হাসপাতালে মারা যান তার মেয়ে বিলকিস বেগম (৩৮)। বিকেলে মা ও মেয়ের মরদেহ এক সঙ্গে বাড়িতে আনা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে পাশাপাশি দুটি খাটিয়ায় নিথর পড়ে আছে মা ও মেয়ের মরদেহ। স্বজনদের আহাজারি আর চাপা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। বিলকিসের স্বামী ছানোয়ার হোসেন স্ত্রী ও শাশুড়ির মরদেহের পাশে বসে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। বাড়ির পাশেই চলে কবর খোঁড়ার কাজ, যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন মা ও মেয়ে।
নিহত সালেহা বেগম বড় মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত খাজা মদ্দিনের স্ত্রী। তার মেয়ে বিলকিস বেগম জর্ডান প্রবাসী ছিলেন এবং তিন বছর আগে দেশে ফেরেন। তুহিন হোসাইন ছিলেন জয়পুরহাট সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন।
গ্রামবাসী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রবিবার সকালে বিলকিস বেগম হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ওই দিনই বিলকিসের মা সালেহা বেগমও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
প্রতিবেশী রুবেল হোসেন বলেন, মাত্র ১৭ ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের তিনজন মারা গেছেন। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত বিলকিসের স্বামী ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার মা, স্ত্রী ও শাশুড়ি—তিনজনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমার মা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু আজ আমার শাশুড়ি ও স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ৩৫ মিনিটের ব্যবধানে মারা গেলেন। এর আগে, রবিবার রাতে হাসপাতালে আমার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলে তুহিন মারা গেছেন।’
স্বজনেরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কথা বললেও চিকিৎসক বললেন আলাদা কথা।
জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, হাসপাতালে যে দুইজন মারা গেছেন, তারা মা ও মেয়ে। তারা ডায়রিয়ায় নয়, শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন। তারা ডায়রিয়া ওয়ার্ডেও ভর্তি ছিলেন না।’