...|...|...

বিশ্ব

৮১টি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে ইরান: সিআরএস

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৩:০৩
Shares
৮১টি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে ইরান: সিআরএস

ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক উড়োজাহাজ ধ্বংস, বিধ্বস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন ড্রোন রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস) ৫ অক্টোবর হালনাগাদ করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে এই ৮১টি উড়োজাহাজের সবগুলোই স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়নি। সিআরএস জানিয়েছে, তালিকায় ধ্বংস ও বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মেরামত শেষে আবার কার্যক্রমে ফিরেছে। চলমান সামরিক অভিযান এবং শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের কারণে ভবিষ্যতে এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে সিআরএসের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে এমকিউ-৯ ‘রিপার’ ড্রোন। ইরানকে ঘিরে পরিচালিত অভিযানে অন্তত ৪৫টি এ ধরনের ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমানের ১২টি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এফ-১৫ইগুলোর মধ্যে মার্চে কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলায় তিনটি ধ্বংস হয়। এ ছাড়া এপ্রিল মাসে ইরানের আকাশসীমায় আরও একটি এফ-১৫ই ধ্বংস হওয়ার তথ্য রয়েছে। সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আটটি এফ-১৫ই ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলোর কয়েকটি পরে আবার কার্যক্রমে ফিরেছে।

সিআরএসের তালিকায় আরও রয়েছে একটি এফ-৩৫এ ‘লাইটনিং টু’, দুটি এ-১০ ‘থান্ডারবোল্ট টু’, সাতটি কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং একটি ই-৩ ‘সেন্ট্রি’ সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমান।

এ ছাড়া বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত দুটি এমসি-১৩০জে, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ‘ট্রাইটন’ এবং তিনটি এমকিউ-১ ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে।

হেলিকপ্টারের তালিকায় রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ভূপাতিত একটি এএইচ-৬৪ ‘অ্যাপাচি’, উদ্ধার অভিযান চলাকালে ধ্বংস হওয়া চারটি এএইচ-৬ ‘লিটল বার্ড’ এবং আরব সাগরে বিধ্বস্ত একটি এমএইচ-৬০ ‘সি হক’।

সিআরএস বলছে, বিপুলসংখ্যক উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন কংগ্রেসের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনে পেন্টাগনের পর্যাপ্ত অর্থ ও সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে।

এ ছাড়া ই-৩ ‘সেন্ট্রি’র মতো তুলনামূলকভাবে সীমিত সংখ্যায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ উড়োজাহাজের ক্ষতি হলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতায় কোনো ঘাটতি তৈরি হবে কি না, সেটিও কংগ্রেসের নজরদারির বিষয় হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং একই সময়ে বিদেশে সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা-সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন হতে পারে।