দলীয় কার্যালয়ের বাইরে পুলিশের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষের জেরে গ্রেফতার হওয়ার এবং প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে থাকার একদিন পর রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন এজেইউপি প্রধান ও নৌদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন যে মুর্শিদাবাদ জেলার মুসলিম-প্রধান রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপিই জয়ী হবে।
দ্যা হিন্দুর তথ্যমতে, নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই বিভিন্ন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হুমায়ুন কবীর আরও ঘোষণা করেন যে, শুভেন্দু অধিকারী যতদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন, ততদিন তিনি বিধানসভায় যাবেন না এবং তার এই সিদ্ধান্তের জন্য নৌদার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
চোখের পানি মুছতে মুছতে হুমায়ুন কবীর বলেন, শুভেন্দু অধিকারী যদি মুখ্যমন্ত্রী থাকেন, আমি বিধানসভায় যাব না। আমি নৌদার মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব।
বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং নিজের সাথে হওয়া আচরণের কারণে বষ্টিক্তি ও মোহভঙ্গ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি রাজনীতি থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতও দেন।
হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এল, যার একদিন আগেই রেজিনগরে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ উপনির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোটগ্রহণ চলাকালীন ও ঠিক তার পরপরই দলীয় কার্যালয়ের বাইরে পুলিশের সাথে তার চরম বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষ ঘটে। পুলিশ তাকে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করা, ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এই সংঘাতের পরেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ এজেইউপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—উভয় আসনেই জয়ী হওয়ার পর নিয়মানুযায়ী রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর, যার ফলে সেখানে এই উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের দিন উচ্চ ভোটার উপস্থিতির পাশাপাশি এই গ্রেফতারকাণ্ডই ছিল সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা।
বুধবার আগের দিনের সেই আক্রমণাত্মক মেজাজের উল্টো পিঠে সম্পূর্ণ এক ভিন্ন রূপে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন হুমায়ুন কবীর। চোখে পানি নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি দাবি করেন যে, রেজিনগরের উপনির্বাচনী প্রক্রিয়া মোটেও নিরপেক্ষ ছিল না।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রেজিনগরে বিজেপি জিতবে। ভোটগ্রহণের দিন প্রশাসনের ভূমিকা কেমন ছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই এই ফলাফল আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনগুলো বর্তমান বিজেপি সরকারের জন্য একটি প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষা এবং বিরোধী দলগুলোর জন্য সরকারের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ৯ অক্টোবর এই উপনির্বাচনের ভোটগণনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


