...|...|...

বিশ্ব

মেক্সিকোয় দ্বৈত নাগরিদের প্রেসিডেন্ট হওয়া নিষিদ্ধ করে আইন পাশ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:২৬
Shares
মেক্সিকোয় দ্বৈত নাগরিদের প্রেসিডেন্ট হওয়া নিষিদ্ধ করে আইন পাশ

ছবি: সংগৃহীত

মেক্সিকোয় দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে এমন ব্যক্তিদের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ বন্ধ করতে নতুন একটি সংস্কার আইন কার্যকর করা হয়েছে। 

বুধবার (৭ অক্টোবর) থেকে এটি কার্যকর হয়। তবে ক্ষমতাসীন দল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ব্যাপক সমালোচনা উঠেছে।

প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেনবাউমের প্রস্তাব অনুযায়ী গত আগস্টের শেষ দিকে এই সংস্কার আইনটি আনা হয়। বিদেশি হস্তক্ষেপ রোধ করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে আইনটির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ছাড়াও রাজ্যগুলোর গভর্নর এবং মেক্সিকো সিটির মেয়রের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

আইনটির বিরোধিতাকারীদের মতে, এই পদক্ষেপ বিদেশে অভিবাসী হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকত্ব অর্জনকারী মেক্সিকানদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে। এছাড়া মেক্সিকোর সংবিধানে ইতোমধ্যে শীর্ষ পদগুলোর জন্য জাতীয়তার কঠোর শর্তাবলী নির্ধারিত রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।

ক্ষমতাসীন মোরেনা দল ও এর মিত্রদের আইনপ্রণেতা ও সেনেটরদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদিত এই সংস্কার আইনটি ২০২৮ সাল থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে। এর অর্থ হলো, নির্দিষ্ট ওই বছর থেকে উল্লিখিত পদগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে অন্য দেশের সাথে থাকা সম্পর্ক বা আনুগত্য আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করতে হবে। তবে আগামী বছরের যেসব মধ্যবর্তী নির্বাচনে কিছু রাজ্যের গভর্নর পদ প্রতিদ্বন্দ্বিতার তালিকায় রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়মের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

প্রেসিডেন্ট শেনবাউম তার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, আজ আমরা ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছি... কোনো প্রেসিডেন্ট বা গভর্নরই দ্বৈত নাগরিকত্ব রাখতে পারবেন না। এ ছাড়া আজকেই সরকারি গেজেটে বিলটি প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, কিউবা, নিকারাগুয়া এবং ভেনেজুয়েলার সংবিধানেও দেশটির প্রেসিডেন্টের অন্য কোনো দেশের জাতীয়তা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এদিকে, বিরোধী দল পিএএন জানিয়েছে, কংগ্রেসের নিয়মাবলীর সাথে এই সংস্কার আইনটি সাংঘর্ষিক, কারণ সংসদ সদস্য ও সেনেটরদের ক্ষেত্রে অন্য দেশের জাতীয়তা রাখার সুযোগ রয়েছে। মার্কিন ও মেক্সিকান উভয় দেশের নাগরিকত্ব থাকা আমেরিকান সোসাইটি অব মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ল্যারি রুবিনও এই সংস্কারের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মেক্সিকোর প্রতি আনুগত্য মানুষের কয়টি পাসপোর্ট আছে তার ওপর নির্ভর করে না, বরং তাদের কাজের পরিধি, ট্র্যাক রেকর্ড এবং সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দিয়েই তা পরিমাপ করা হয়।