ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও বিজ্ঞানীদের ওপর হামলা চালিয়েও দেশটির শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার উপপ্রধান বেহরুজ কামালভান্দি।
প্রেস টিভি জানায়, মঙ্গলবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাধারণ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্প ব্যবস্থা দেশের অভ্যন্তরে গভীরভাবে প্রোথিত। সামরিক পদক্ষেপ বা গুপ্তহত্যার মাধ্যমে এগুলো ধ্বংস করা সম্ভব নয়।
কামালভান্দি বলেন, ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা, জ্ঞানভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালানো হলেও দেশটির জনগণকে থামানো যাবে না।
তিনি বলেন, “ইরানের শত্রুদের বুঝতে হবে, পারমাণবিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও শিল্প ব্যবস্থা এ দেশে গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে। সামরিক হামলা বা গুপ্তহত্যার মাধ্যমে তা মুছে ফেলা যাবে না।”
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পর এ মন্তব্য করলেন কামালভান্দি। তার দাবি, এসব হামলার কিছু অংশ ইরানের সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশকের চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও অবিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই ইরান তার পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ে তুলেছে।
কামালভান্দি জানান, ইরানের পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাস প্রায় ৮০ বছরের পুরোনো এবং দেশটির আণবিক শক্তি সংস্থার বয়স ৫২ বছর। তিনি বলেন, ইরান ‘পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি’ বা এনপিটির অন্যতম প্রাথমিক সদস্য এবং বরাবরই তার পারমাণবিক কার্যক্রমের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের কথা বলে আসছে।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখে থেকেও ইরান আলোচনা চালিয়ে গেছে এবং ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ বা পারমাণবিক চুক্তির শর্ত মেনে চলেছে।
কামালভান্দির দাবি, চুক্তির পক্ষগুলোর মধ্যে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই চুক্তি থেকে সরে গিয়েছিল। এরপরও ইরান প্রায় দেড় বছর একতরফাভাবে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছিল বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, তৎকালীন আইএইএ মহাপরিচালকের টানা ১৫টি প্রতিবেদনে ইরানের চুক্তি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে এরপরও ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যার কিছু পদক্ষেপকে সমর্থকেরা ‘পঙ্গু করে দেওয়ার মতো’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
কামালভান্দি জানান, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনের পর JCPOA নিয়ে আলোচনা আবার শুরু হয়েছিল। তবে চুক্তিতে ফেরার বিষয়ে অগ্রগতি হওয়ার সময় ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের ওপর সামরিক অভিযান চালায় বলে তিনি দাবি করেন।
আইএইএর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কামালভান্দি। তিনি বলেন, সংস্থাটি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন চালালেও কখনো পারমাণবিক উপাদান অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়ার (ডাইভারশন) প্রমাণ পেয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।


