হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবির মাঝেই চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর থেকে গত ৯ দিনে এই প্রণালীতে অন্তত ১১টি তেলবাহী ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে কয়েকটি সমুদ্রের তলদেশে ডুবে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌশাখা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ নিজেদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আইআরজিসি নৌবাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’-র এক প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করা হয়।
আইআরজিসি তাদের পোস্টে উল্লেখ করে, মাত্র ৯ দিনে—গত ২৫ অক্টোবর (যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের হরমুজ প্রণালী পরিদর্শনের তারিখ) থেকে আজ পর্যন্ত—হরমুজ প্রণালীতে ১১টি ভিন্ন ভিন্ন তেল ট্যাংকারে আগুন ধরেছে এবং এর মধ্যে কয়েকটি সমুদ্রের অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি এবং এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি পুরোপুরি খোলা ও নিরাপদ রয়েছে বলে ওয়াশিংটনের দাবির মুখে আইআরজিসি এ তথ্য প্রকাশ করল।
এর আগে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি মার্কিন কমান্ডারের এই সফর নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও ব্যঙ্গ করেন। তিনি এক্স-এ একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যায় মার্কিন সেন্টকম প্রধান কুপার হরমুজ প্রণালীর ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছেন, নিচে একটি তেলবাহী জাহাজে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে এবং পাশে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৭ ডলারে পৌঁছানোর চিত্র ভেসে উঠছে।
আইআরজিসি নৌবাহিনী পুনরায় জোর দিয়ে জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে এবং অননুমোদিত রুট বা পথ ব্যবহার না করার জন্য সব ধরনের জলযানকে কড়া বার্তা ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।


