...|...|...

শিক্ষা

স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় প্রাথমিকের চাকরি থেকে বাদ ইবি শিক্ষার্থী

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৫৭
Shares
স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় প্রাথমিকের চাকরি থেকে বাদ ইবি শিক্ষার্থী

ইবি শিক্ষার্থী মিশন আচার্য। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকার কারণে চাকরি থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায়।

মিশন আচার্যের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মায়ের সাথে ঝিনাইদহে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন তিনি। তার বাবা অনেক বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাবার ঠিকানা থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। তবে কলাবাগান এলাকাতেই তার জন্ম এবং জন্মের পর থেকে সেখানেই বসবাস করে আসছেন বলে দাবি তার।

তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য উপজেলায় মোট ১৮২ জনকে সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং অন্যজন তিনি নিজে। উপজেলা পর্যায়ে তিনি ১৭তম স্থান অর্জন করেছিলেন বলেও জানান।

মিশন আচার্য বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুলিশকে ভূমিহীন সনদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, জমির দলিল জমা দিলেও হবে। এরপর তিনি একটি জমির দলিল জমা দেন। তার খালু সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমিজমার কাগজ প্রয়োজন হতে পারে—এমন ধারণা থেকে গ্রামের এলাকায় তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। পুলিশ তদন্তের সময় সেই জমির দলিলও জমা দেন তিনি।

তবে ওই জমিতে তার কোনো বসতবাড়ি নেই এবং তিনি কখনো সেখানে বসবাসও করেননি বলে জানান মিশন আচার্য। তার অভিযোগ, স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকাকেই চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

মিশন আচার্য বলেন, আমার মা বাসা-বাড়িতে কাজ করে আমাকে বড় করেছেন। আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নই। আমি সরকারের কাছে আমার চাকরিটি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সদয় বিবেচনার অনুরোধ করছি।

তিনি আরও বলেন, আমার কি দোষ? ভাড়া বাসায় জন্মেছি, এটাই কি আমার দোষ? রাষ্ট্র আমার ভোট নিচ্ছে, আমাকে খাওয়াচ্ছে, পড়াচ্ছে কিন্তু চাকরি দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রের কাছে আমার মেধা আর পরিশ্রমের চেয়ে জমিজমার মূল্য বেশি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, মিশন আচার্যের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা অধিদফতরকে জানানো হয়েছে। আশা করছেন, এ বিষয়ে একটি সমাধান হবে।