...|...|...

বিশ্ব

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ৪ শতাধিক স্কুল বন্ধ, আটক ২ হাজার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৫
Shares
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ৪ শতাধিক স্কুল বন্ধ, আটক ২ হাজার

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ ভবনের প্রতিবাদে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করায় বন্ধ রয়েছে প্রায় ৪০০ হাইস্কুল। রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ধীরে ধীরে তা সহিংস রূপ নিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার কট্টর বামপন্থীদের এর জন্য দায়ী করেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিক্ষোভের কারণে দেশের প্রায় ৪০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে প্যারিস অঞ্চলে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। স্কুলগুলোর শেষ বর্ষের কিশোর শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের গেট আটকে বিক্ষোভ করার পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ফ্রান্স ২৪ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ যে তাদের ক্লাসের সময় অতিরিক্ত দীর্ঘ, গরম কক্ষসহ সুযোগ-সুবিধার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় এবং শিক্ষক বা স্টাফদের অনুপস্থিতি মাত্রাতিরিক্ত।

সরকার শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে যৌক্তিক বলে স্বীকার করলেও আন্দোলনের নামে চলা ‘শহুরে সহিংসতা’র তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিয়মিত টিয়ার গ্যাস শেল নিক্ষেপ করে আহত করার অভিযোগ তুলেছে।

এদিকে, প্যারিসে দুটি হাইস্কুলের প্রবেশদ্বারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে—দক্ষিণ প্যারিসের লিওনার্দো ভিঞ্চি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গ্যাস্টন-বাশেলার্ড। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীকে ঘটনাস্থলে কাজ করতে হয়। এএফপির এক আলোকচিত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

‘জিম্মি’ দশা ও সরকারের কড়া অবস্থান

শিক্ষামন্ত্রী এডুয়ার্ড জেফ্রে বলেছেন, হাইস্কুলের এই শিক্ষার্থী আন্দোলনটি উগ্র-সহিংস একটি গোষ্ঠীর দ্বারা জিম্মি হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, দেশটির ৩,৭০০টি হাইস্কুলের মধ্যে প্রায় ৪০০টি স্কুল শুক্রবার বন্ধ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় মার্সেই শহরে অনেক হাইস্কুল অনলাইনে বা রিমোট ক্লাসের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

বিএফএমটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আন্দোলন শুরুর পর থেকে কমপক্ষে ৬৫ জন স্কুল স্টাফ আহত হয়েছেন—যার মধ্যে ৪০ জনই হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল। এছাড়া প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এবং ১০০টিরও বেশি হাইস্কুল গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছে।

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিভাবকদের অবশ্যই স্পষ্টভাবে এগিয়ে আসতে হবে এবং তাদের সন্তানদের মিছিলে বা বিক্ষোভে না যাওয়ার নির্দেশ দিতে হবে। এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমাদের সন্তানদের রাস্তায় বিপদের মুখে না পড়া নিশ্চিত করা।

এদিকে বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন আরটিএল-কে জানান, তিনি প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন বিক্ষোভের সময় ছেলেমেয়েদের দ্বারা সংঘটিত কোনো ক্ষয়ক্ষতির জন্য অভিভাবকদের দায়ী করা হয় এবং তাদেরই ক্ষতিপূরণের খরচ বহন করতে হয়। তিনি আরও জানান, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ২,০০০ মানুষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে—যাদের ৯০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।