...|...|...

বিশ্ব

তেল রফতানি বন্ধ করল চীন, সংকটে বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৩ | আপডেট: ২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৪৭
Shares
তেল রফতানি বন্ধ করল চীন, সংকটে বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশ

ছবি: সংগৃহীত

হংকং ও ম্যাকাও ব্যতীত অন্য অঞ্চলে পরিশোধিত তেল বা জ্বালানি পণ্য রফতানি চলতি মাসেই স্থগিত করেছে চীন। এর ফলে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মতো তাদের অন্যতম বড় ক্রেতা দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত বা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্স বলছে, বিশ্বের বৃহত্তম শোধনাগার কেন্দ্র থেকে জ্বালানি চালান হ্রাসের আশঙ্কায় এশিয়ার শোধনাগারগুলো গত বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় প্রতি ব্যারেলে পেট্রোলের মার্জিন রেকর্ড ৫০ ডলারেরও বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে গ্যাসঅয়েল এবং জেট ফুয়েলের মাসিক স্প্রেডগুলোকে আরও তীব্র ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’—অর্থাৎ ভবিষ্যতের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি সরবরাহের দাম বেশি থাকা—এমন বাজারের কাঠামোর দিকে ধাবিত করেছে।

অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সিঙ্গাপুর চীনের পেট্রোলের সবচেয়ে বড় প্রাপক দেশ হিসেবে ১৭ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন (১৪৯.৭ মিলিয়ন ব্যারেল) পেট্রোল আমদানি করেছে। এই পরিমাণটি ২০২৫ সালের মোট আমদানির তুলনায় ৬২ শতাংশ কম, যা স্পষ্টতই বাজারে তীব্র সরবরাহের সংকট নির্দেশ করে। এছাড়া এশিয়ার এই তেল বাণিজ্য কেন্দ্রে হালকা পাতলা পাতন বা লাইট ডিস্টিলেটের মজুদ গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা সাধারণত সিঙ্গাপুরে পেট্রোল ব্লেন্ড বা মিশ্রিত করে পুনরায় রফতানি করেন, যার প্রধান গন্তব্য ইন্দোনেশিয়া।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান-এর মুখপাত্র মুহাম্মদ ব্যারন বলেছেন, চীনের জ্বালানি রফতানি নীতির গতিপ্রকৃতি আমরা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি। তিনি জানান, পার্তামিনার একটি বহুমুখী সরবরাহ পোর্টফোলিও রয়েছে, পাশাপাশি তারা আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বায়োফুয়েল বা জৈব জ্বালানির উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার রেখেছে।

প্রসঙ্গত, চীনের মোট রফতানির সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে জেট জ্বালানি বা কেরোসিন, যার বেশিরভাগই যায় হংকংয়ে এবং এই দেশটিকে চীনের রফতানি নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। কেপলারের উপাত্ত অনুযায়ী, চলতি বছর অস্ট্রেলিয়া চীনের জেট ফুয়েল আমদানির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যার পরে রয়েছে যথাক্রমে ভিয়েতনাম, জাপান এবং মালয়েশিয়া।

অন্যদিকে, ডিজেলের ক্ষেত্রে, হংকংয়ের পর চীন থেকে আমদানির দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। এরপরেই রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়ার সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে ৪২ দিনের পেট্রোল মজুদ রয়েছে, যা প্রয়োজনীয় পরিমাণের চেয়ে ১১০ শতাংশ বেশি এবং স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যেই রয়েছে ২৯ দিনের জেট ফুয়েল।” সরকার আরও জানায়, বর্তমানে ৪৩৫টি জাহাজ অস্ট্রেলিয়ার পথে রয়েছে এবং আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহের জন্য ৩৫০ কোটি লিটার জ্বালানি নির্ধারিত রয়েছে।

সিডনিভিত্তিক কনসালটেন্সি ‘এক্সঅ্যানালিস্টস’-এর প্রধান তেল বিশ্লেষক মুকেশ সহদেব বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ওপর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব সীমিত, কারণ দেশটির প্রধান আমদানিকৃত জ্বালানি হলো ডিজেল, যা মূলত দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ব্রুনাই এবং মালয়েশিয়া থেকে আসে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, চীন যদি বৃহত্তর বাজারে জ্বালানি সরবরাহ না করে, তবে তা সব ক্রেতার জন্যই দাম বাড়িয়ে দেবে।

এলএসইজি-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের তুলনায় জেট ফুয়েলের দাম শক্তিশালী হয়েছে এবং দুই জ্বালানির মধ্যকার দামের ব্যবধান বা ‘রিগ্রেড’ বেড়ে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ২ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত জুলাইয়ের পর আর দেখা যায়নি। ইউরোপীয় গ্যাসঅয়েল ফিউচার্সের দাম হ্রাসের ফলে শুক্রবার ডিজেল মার্জিন কিছুটা কমে তিন সেশনের মধ্যে সর্বনিম্নে অর্থাৎ প্রতি ব্যারেল প্রায় ৬৭ ডলারে নেমে আসে।

রয়টার্সকে তথ্য প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি মূল্য হ্রাসের প্রচেষ্টায় ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর বাড়তি সরবরাহ উন্মুক্ত করতে মার্কিন চাপের মুখে পড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর অংশ হিসেবে ফরাসি প্রস্তাব অনুযায়ী অতিরিক্ত ডিজেল মজুদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে শুক্রবার আলোচনা করেছেন ইইউভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা।