...|...|...

বিশ্ব

ভাড়া কমানো ও উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল স্পেন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪৯
Shares
ভাড়া কমানো ও উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল স্পেন

ছবি: সংগৃহীত

ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা এবং আবাসন সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে স্পেনজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। শুক্রবার দেশটির পার্লামেন্টে সরকারের প্রস্তাবিত দুটি জরুরি আবাসন ডিক্রি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর শনিবার (৩ অক্টোবর) মাদ্রিদ, ভ্যালেন্সিয়া, বার্সেলোনাসহ ৫০টির বেশি শহরে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে  এ তথ্য জানিয়েছে

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের অন্যতম পটভূমি ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকালের উচ্ছেদ। মাদ্রিদের যে বাড়িতে তিনি প্রায় ৭০ বছর ধরে বসবাস করছিলেন, সেখান থেকে তাকে উচ্ছেদের ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আবাসন অধিকারকর্মীদের দাবি, একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সম্পত্তিটি কিনে ভাড়া বড় পরিমাণে বাড়াতে চেয়েছিল। পরে তীব্র প্রতিবাদের মুখে তাকে কম ভাড়ায় আবারও সেখানে থাকার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়।

এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্বল ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদে বিধিনিষেধ, ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা এবং আবাসন জল্পনা-কল্পনা নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা প্রস্তাব করে। তবে শুক্রবার পার্লামেন্টে প্রস্তাবগুলো প্রয়োজনীয় সমর্থন পায়নি।

বিক্ষোভকারীরা ভাড়া কমানো, ঝুঁকিতে থাকা ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ বন্ধ এবং তথাকথিত ‘ভালচার ফান্ড’ বা উচ্চ মুনাফার লক্ষ্যে সম্পত্তি কেনা বিনিয়োগ তহবিলগুলোর ভূমিকা সীমিত করার দাবি জানাচ্ছেন। স্পেনে গত এক দশকে গড় ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা দেশটির আবাসন সংকটকে আরও তীব্র করেছে।

সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটি হয়েছে রাজধানী মাদ্রিদে। সরকারি হিসাবে সেখানে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ অংশ নেন। আয়োজক ভাড়াটিয়া সংগঠন অবশ্য অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ কয়েক দিন ধরে পুয়ের্তা দেল সল চত্বরে অবস্থান করছেন।

ভ্যালেন্সিয়ায় পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পালাউ দে লেস আর্টস রেইনা সোফিয়ার কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কিছু বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করলে পুলিশ রাবার বুলেট ব্যবহার করে।

পার্লামেন্টে সরকারের আবাসন প্রস্তাব ব্যর্থ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সানচেজের সংখ্যালঘু সরকারের রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে সাধারণ নির্বাচন হতে পারে কি না, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সরকার এখনো আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেয়নি।