...|...|...

শিক্ষা

অবশেষে নিয়োগপত্র পাচ্ছেন ‘স্থায়ী বসতভিটা’ না থাকা মিশন আচার্য

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৪৮
Shares
অবশেষে নিয়োগপত্র পাচ্ছেন ‘স্থায়ী বসতভিটা’ না থাকা মিশন আচার্য

ঝিনাইদহের মিশন আচার্য। ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়েও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র পাননি ঝিনাইদহের মিশন আচার্য। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দফতরে ঘোরার পর এবার তার চাকরির জটিলতা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস মিলেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান জানান, এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে তিনি কথা বলেছেন। তার দাবি, দ্রুতই বিষয়টির সমাধান হবে এবং মিশন আচার্য শিগগির নিয়োগ পাবেন।

রাশেদ খান লিখেছেন, আমি একটু আগে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। বিষয়টি দ্রুতই সমাধান হবে এবং সে শিগগিরই নিয়োগ পাবে। চাকরি প্রত্যাশী ছোট ভাইটি আমার এলাকার হওয়ায় ঝিনাইদহ থেকে অনেকে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিল, তাদেরকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় মা ও পরিবারের সাথে বসবাস করেন ৩০ বছর বয়সী মিশন আচার্য। মা ময়না আচার্য গৃহপরিচারিকার কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন। বাবার সাথে বিচ্ছিন্নতার পর কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যেই মিশনের পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি।

মিশন আচার্য জানান, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় তার সাথে মোট ১৮২ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তাদের মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। অপর একজনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় নিয়োগপত্র আটকে আছে। আর তার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে স্থায়ী ঠিকানা না থাকায়।

তার ভাষ্য, নিজেদের কোনো বসতভিটা না থাকায় চাকরির আবেদনে তিনি ঝিনাইদহ শহরের ভাড়া বাসার ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন। পরবর্তীতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোঁজ নিতে গেলে তাকে জানানো হয়, তার স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

কলাবাগান এলাকাতেই বেড়ে উঠেছেন মিশন। বর্তমানে শহিদুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকেন তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাজীবনের সব সনদেও ওই এলাকার ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে। নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়ার পর পুলিশ ওই ঠিকানায় গিয়ে তার বিষয়ে যাচাইও করেছে বলে জানান তিনি। এরপরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করেন মিশন।

তার পারিবারিক জীবনও ছিল নানা সংকটে ভরা। মিশনের বাবা নন্দ আচার্যের বাড়ি যশোরে। মা ময়না আচার্যের সাথে বিয়ের পর তিনি ঝিনাইদহে থাকতেন। তবে মিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে কখনো যশোরে নিয়ে যাওয়া হয়নি। ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগানেই তাদের সংসার ছিল।

মিশন জানান, বড় ভাই শৈলেন আচার্য বর্তমানে অন্য একজনের সাথে ভাগে কাপড়ের ব্যবসা করেন। তিনি মায়ের গর্ভে আসার পর বাবা তাদের ছেড়ে চলে যান এবং এরপর আর ফিরে আসেননি।

স্বামী চলে যাওয়ার পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ময়না আচার্য। অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে দুই সন্তানকে বড় করেন তিনি। পারিবারিক চাপের কারণে বড় ছেলে শৈলেনের পড়াশোনা বেশি দূর এগোয়নি। তবে মিশনের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে নিজের কষ্টের আয় ব্যয় করেছেন মা।

এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার পর মিশন আচার্যের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ে। পরে এইচএসসিতে জিপিএ-৪ দশমিক ৮৩ পেয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

স্থায়ী বসতভিটা না থাকার বিষয়টি নিয়েও তিনি জানান, তার নানা বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে। সেখানে তার বাবা কিছুদিন ছিলেন। পরিবারের নিজস্ব জমি না থাকায় মামা বিষ্ণুপদ বিশ্বাস ২০২২ সালে পণ্ডিতপুরে বাড়ি করার জন্য তাকে দুই শতক জমি দেন। তবে আর্থিক কারণে সেখানে এখনো বাড়ি করা সম্ভব হয়নি।

মিশনের স্বপ্ন ছিল চাকরি পাওয়ার পর ওই জমিতে একটি বাড়ি করে মা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে বসবাস করবেন। শিক্ষক পদে সুপারিশ পাওয়ার পর নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় থাকা অবস্থাতেই স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।